শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘যদি ফিফা সত্যিই চায় আমরা বিদায় নিই, তাহলে সেটাই হোক’

২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ১-১ গোলে ড্র করেও স্বস্তি মেলেনি ইরানের। যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেও অতি সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হওয়ায় নকআউটে ওঠার স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে আছে দলটির।

সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই। তবে একই সময়ে বেলজিয়াম ৫-১ গোলে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দেওয়ায় গ্রুপের সমীকরণ পাল্টে যায়। মিসর দ্বিতীয় স্থান নিয়ে শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পেলেও, ইরানকে এখন অপেক্ষা করতে হবে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটির একটি হিসেবে পরের পর্বে জায়গা পাওয়া যায় কি না।

ম্যাচ শেষে শুধু ফল নিয়েই নয়, পুরো টুর্নামেন্টের আয়োজন নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইরানের তারকা ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি। ফিফা এবং সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই বিশ্বকাপ আয়োজনের দিক থেকে একেবারেই ব্যর্থ।

তারেমির ভাষায়, ‘এটি একটি বিপর্যস্ত বিশ্বকাপ। শুরু থেকেই যেসব সমস্যার সমাধান করার দায়িত্ব ফিফার ছিল, তারা তার কোনোটিই করতে পারেনি।’

তিনি জানান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ইনফান্তিনো ইরানের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, ‘এটি তো কেবল শুরু।’ কিন্তু গ্রুপ পর্ব শেষ হয়ে গেলেও বাস্তব পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ তারেমির।

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের সহায়ক কর্মীদের অনুপস্থিতি নিয়ে। তার দাবি, প্রয়োজনীয় ভিসা না পাওয়ায় দলের দায়িত্বে থাকা লজিস্টিক ও পুনর্বাসন–সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বিশ্বকাপে ইরানের সঙ্গে থাকতে পারেননি।

তারেমি বলেন, ‘আমাদের লজিস্টিক দলের সদস্যরা এখানে নেই। তারা ভিসাই পাননি। একজন পেশাদার দল হিসেবে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

একই সঙ্গে দলের দীর্ঘ ভ্রমণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইরানি অধিনায়ক। তার ভাষায়, প্রতিটি ম্যাচের পর তাদের বারবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘তিহুয়ানার মানুষকে আমরা ভালোবাসি। মেক্সিকোকেও সম্মান করি। কিন্তু একটি পেশাদার প্রতিযোগিতায় বারবার এত দূরে যাতায়াত করা মোটেও স্বাভাবিক নয়। এটি আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে বলে মনে হয়।’

ক্ষোভ ঝেড়ে তারেমি আরও বলেন, ‘আমরা বারবার এসব সমস্যার কথা বলেছি। কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি, কেউ সাহায্যও করেনি। যদি ফিফা সত্যিই চায় আমরা বিদায় নিই, তাহলে সেটাই হোক। কিন্তু অন্তত ন্যায্য আচরণ তো প্রাপ্য ছিল।’

ইরানকে এই বিশ্বকাপে অবাঞ্ছিত মনে করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেমি বলেন, ‘এখানে আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। কখনো কখনো মনে হয়, আমাদের এমন পরিস্থিতিতেই দেখতে চাওয়া হচ্ছে। নইলে ৯০ মিনিট খেলার পর কেন আমাদের আবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হবে?’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

তামান্নার খোলামেলা ভিডিও ভাইরাল, উত্তাল নেটদুনিয়া!

‘যদি ফিফা সত্যিই চায় আমরা বিদায় নিই, তাহলে সেটাই হোক’

প্রকাশিত সময় : ০৬:২১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিসরের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস ১-১ গোলে ড্র করেও স্বস্তি মেলেনি ইরানের। যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেও অতি সূক্ষ্ম অফসাইডের কারণে সেটি বাতিল হওয়ায় নকআউটে ওঠার স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে ঝুলে আছে দলটির।

সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই। তবে একই সময়ে বেলজিয়াম ৫-১ গোলে নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দেওয়ায় গ্রুপের সমীকরণ পাল্টে যায়। মিসর দ্বিতীয় স্থান নিয়ে শেষ ষোলোতে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পেলেও, ইরানকে এখন অপেক্ষা করতে হবে তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা আটটির একটি হিসেবে পরের পর্বে জায়গা পাওয়া যায় কি না।

ম্যাচ শেষে শুধু ফল নিয়েই নয়, পুরো টুর্নামেন্টের আয়োজন নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইরানের তারকা ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি। ফিফা এবং সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই বিশ্বকাপ আয়োজনের দিক থেকে একেবারেই ব্যর্থ।

তারেমির ভাষায়, ‘এটি একটি বিপর্যস্ত বিশ্বকাপ। শুরু থেকেই যেসব সমস্যার সমাধান করার দায়িত্ব ফিফার ছিল, তারা তার কোনোটিই করতে পারেনি।’

তিনি জানান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের পর ইনফান্তিনো ইরানের ড্রেসিংরুমে এসে বলেছিলেন, ‘এটি তো কেবল শুরু।’ কিন্তু গ্রুপ পর্ব শেষ হয়ে গেলেও বাস্তব পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে অভিযোগ তারেমির।

সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলের সহায়ক কর্মীদের অনুপস্থিতি নিয়ে। তার দাবি, প্রয়োজনীয় ভিসা না পাওয়ায় দলের দায়িত্বে থাকা লজিস্টিক ও পুনর্বাসন–সংশ্লিষ্ট কর্মীরা বিশ্বকাপে ইরানের সঙ্গে থাকতে পারেননি।

তারেমি বলেন, ‘আমাদের লজিস্টিক দলের সদস্যরা এখানে নেই। তারা ভিসাই পাননি। একজন পেশাদার দল হিসেবে এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

একই সঙ্গে দলের দীর্ঘ ভ্রমণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইরানি অধিনায়ক। তার ভাষায়, প্রতিটি ম্যাচের পর তাদের বারবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হয়েছে, যা খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘তিহুয়ানার মানুষকে আমরা ভালোবাসি। মেক্সিকোকেও সম্মান করি। কিন্তু একটি পেশাদার প্রতিযোগিতায় বারবার এত দূরে যাতায়াত করা মোটেও স্বাভাবিক নয়। এটি আমাদের সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে বলে মনে হয়।’

ক্ষোভ ঝেড়ে তারেমি আরও বলেন, ‘আমরা বারবার এসব সমস্যার কথা বলেছি। কিন্তু কেউ আমাদের কথা শোনেনি, কেউ সাহায্যও করেনি। যদি ফিফা সত্যিই চায় আমরা বিদায় নিই, তাহলে সেটাই হোক। কিন্তু অন্তত ন্যায্য আচরণ তো প্রাপ্য ছিল।’

ইরানকে এই বিশ্বকাপে অবাঞ্ছিত মনে করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তারেমি বলেন, ‘এখানে আমাদের প্রতিটি মুহূর্তে নানা প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। কখনো কখনো মনে হয়, আমাদের এমন পরিস্থিতিতেই দেখতে চাওয়া হচ্ছে। নইলে ৯০ মিনিট খেলার পর কেন আমাদের আবার তিহুয়ানায় ফিরে যেতে হবে?’