বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রোনালদো চাইলেই কেপ ভার্দের হয়ে খেলতে পারতেন!

বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আমরা সব সময় পর্তুগালের লাল-সবুজ জার্সিতেই অভ্যস্ত। যিনি এখন উত্তর আমেরিকার তপ্ত রোদে পর্তুগালের জার্সিতে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মাতাচ্ছেন। কিন্তু ইতিহাস যদি সামান্য বাঁক নিত, তবে রোনালদোকে আজ আমরা দেখতাম এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিস্ময়—কেপ ভার্দের নীল জার্সিতে খেলতে!

মাদেইরার অতিদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা সিআর সেভেনের রক্তে মিশে আছে এক আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রের ইতিহাস। রোনালদোর বাবার দিকের প্রপিতামহী (দাদির মা) ইসাবেল রোসা দা পিয়েদাদের জন্ম হয়েছিল কেপ ভার্দের সাও ভিনসেন্তে দ্বীপে। জীবনের প্রথম ১৬ বছর সেখানে কাটিয়ে ভাগ্য অন্বেষণে তিনি পাড়ি জমান পর্তুগালের মাদেইরাতে।

আটলান্টিক মহাসাগরে ১০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্র দেশ কেপ ভার্দের জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার, যা ঢাকার জনসংখ্যার তুলনায় খুবই সামান্য। বংশসূত্রে রোনালদোর ধমনিতে সেই কেপ ভার্দের রক্তই বইছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়মানুযায়ী চাইলে তিনি এই দ্বীপরাষ্ট্রের হয়ে খেলার যোগ্যতা রাখতেন।

কেপ ভার্দে এবার নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে ফুটবলবিশ্বকে চমকে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, নকআউট পর্বে (শেষ ৩২) তারা মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। ফুটবলপ্রেমীরা এখন ভাবছেন, যদি রোনালদো সেই দেশের হয়ে খেলতেন, তবে হয়তো মেসি বনাম রোনালদোর ঐতিহাসিক লড়াইটি আজ অন্য কোনো প্রেক্ষাপটে দেখা যেত!

বাস্তবতা অবশ্য ভিন্ন পথে চলেছে। রোনালদো পর্তুগালের জার্সিতে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার হয়েছেন, ভেঙেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের সব রেকর্ড, দেশকে এনে দিয়েছেন রাজকীয় সাফল্য। তবে কেপ ভার্দের এই রূপকথা এবং রোনালদোর সাথে তাদের পারিবারিক যোগসূত্র ফুটবলপ্রেমীদের মনে এক চিরস্থায়ী ‘কী হতো যদি’ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অদম্য পারফরম্যান্স এবং রোনালদোর পারিবারিক শিকড় নিয়ে এই নতুন তথ্যটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে। হয়তো কোনো এক সমান্তরাল মহাবিশ্বে আজো নীল জার্সিতে মাঠ মাতাচ্ছেন ফুটবলের এই জীবন্ত কিংবদন্তি!

সোর্স: UOL Esporte

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

রোনালদো চাইলেই কেপ ভার্দের হয়ে খেলতে পারতেন!

প্রকাশিত সময় : ০৪:৪৪:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে আমরা সব সময় পর্তুগালের লাল-সবুজ জার্সিতেই অভ্যস্ত। যিনি এখন উত্তর আমেরিকার তপ্ত রোদে পর্তুগালের জার্সিতে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মাতাচ্ছেন। কিন্তু ইতিহাস যদি সামান্য বাঁক নিত, তবে রোনালদোকে আজ আমরা দেখতাম এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় বিস্ময়—কেপ ভার্দের নীল জার্সিতে খেলতে!

মাদেইরার অতিদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা সিআর সেভেনের রক্তে মিশে আছে এক আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রের ইতিহাস। রোনালদোর বাবার দিকের প্রপিতামহী (দাদির মা) ইসাবেল রোসা দা পিয়েদাদের জন্ম হয়েছিল কেপ ভার্দের সাও ভিনসেন্তে দ্বীপে। জীবনের প্রথম ১৬ বছর সেখানে কাটিয়ে ভাগ্য অন্বেষণে তিনি পাড়ি জমান পর্তুগালের মাদেইরাতে।

আটলান্টিক মহাসাগরে ১০টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ক্ষুদ্র দেশ কেপ ভার্দের জনসংখ্যা প্রায় ৫ লাখ ২৫ হাজার, যা ঢাকার জনসংখ্যার তুলনায় খুবই সামান্য। বংশসূত্রে রোনালদোর ধমনিতে সেই কেপ ভার্দের রক্তই বইছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়মানুযায়ী চাইলে তিনি এই দ্বীপরাষ্ট্রের হয়ে খেলার যোগ্যতা রাখতেন।

কেপ ভার্দে এবার নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়ে ফুটবলবিশ্বকে চমকে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, নকআউট পর্বে (শেষ ৩২) তারা মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। ফুটবলপ্রেমীরা এখন ভাবছেন, যদি রোনালদো সেই দেশের হয়ে খেলতেন, তবে হয়তো মেসি বনাম রোনালদোর ঐতিহাসিক লড়াইটি আজ অন্য কোনো প্রেক্ষাপটে দেখা যেত!

বাস্তবতা অবশ্য ভিন্ন পথে চলেছে। রোনালদো পর্তুগালের জার্সিতে ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ফুটবলার হয়েছেন, ভেঙেছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলের সব রেকর্ড, দেশকে এনে দিয়েছেন রাজকীয় সাফল্য। তবে কেপ ভার্দের এই রূপকথা এবং রোনালদোর সাথে তাদের পারিবারিক যোগসূত্র ফুটবলপ্রেমীদের মনে এক চিরস্থায়ী ‘কী হতো যদি’ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এবারের বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের অদম্য পারফরম্যান্স এবং রোনালদোর পারিবারিক শিকড় নিয়ে এই নতুন তথ্যটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার খোরাক যুগিয়েছে। হয়তো কোনো এক সমান্তরাল মহাবিশ্বে আজো নীল জার্সিতে মাঠ মাতাচ্ছেন ফুটবলের এই জীবন্ত কিংবদন্তি!

সোর্স: UOL Esporte