শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেটের প্রকৃত সার্থকতা সফল বাস্তবায়নের ওপর: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় বাজেট দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। তবে একটি ভালো বাজেট প্রণয়নই শেষ কথা নয়, এর প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাজেট বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দেড়-দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত বাজেটটি জনগণের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। এখন সেই বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমলাতন্ত্র সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা পরিবর্তনের দায়িত্ব সরকারি কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। গত চার মাসের অভিজ্ঞতায় তিনি উপলব্ধি করেছেন, সবাই মিলে কাজ করলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। তাই প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে এসে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সভাগুলো একমুখী না হয়ে কর্মকর্তাদের মুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা, মুক্ত আলোচনা এবং ‘আউট অব দ্য বক্স’ চিন্তার মাধ্যমে কাজের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি কাজের পরিবেশকে পরিবারের মতো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সমস্যা বা অভিযোগ তুলে ধরলেই হবে না, বরং তার সমাধানে নতুন ধারণা ও কার্যকর প্রস্তাব দিতে হবে। অনুবিভাগগুলো থেকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ফিডব্যাক পাওয়া গেলে নীতিনির্ধারণে তা সহায়ক হবে। দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অর্থ বিভাগকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা-সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং চট্টগ্রাম থেকে আধুনিক সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সমন্বয়ে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনে কক্সবাজার অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবাখাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে জেলার অবদান আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

বাজেটের প্রকৃত সার্থকতা সফল বাস্তবায়নের ওপর: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত সময় : ১০:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় বাজেট দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত ও প্রশংসিত হয়েছে। তবে একটি ভালো বাজেট প্রণয়নই শেষ কথা নয়, এর প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করছে সফল বাস্তবায়নের ওপর

অর্থ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাজেট বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দেড়-দুই মাসের পরিশ্রমে প্রণীত বাজেটটি জনগণের ইতিবাচক সাড়া পেয়েছে। এখন সেই বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, আমলাতন্ত্র সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা পরিবর্তনের দায়িত্ব সরকারি কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে। গত চার মাসের অভিজ্ঞতায় তিনি উপলব্ধি করেছেন, সবাই মিলে কাজ করলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করা সম্ভব। তাই প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে এসে পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সভাগুলো একমুখী না হয়ে কর্মকর্তাদের মুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত মতপ্রকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পারস্পরিক সহযোগিতা, মুক্ত আলোচনা এবং ‘আউট অব দ্য বক্স’ চিন্তার মাধ্যমে কাজের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। তিনি কাজের পরিবেশকে পরিবারের মতো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সমস্যা বা অভিযোগ তুলে ধরলেই হবে না, বরং তার সমাধানে নতুন ধারণা ও কার্যকর প্রস্তাব দিতে হবে। অনুবিভাগগুলো থেকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ ফিডব্যাক পাওয়া গেলে নীতিনির্ধারণে তা সহায়ক হবে। দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অর্থ বিভাগকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা-সংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, পর্যটন সম্ভাবনাময় এলাকাগুলোতে পরিবেশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং চট্টগ্রাম থেকে আধুনিক সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সমন্বয়ে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার যে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জনে কক্সবাজার অন্যতম প্রবৃদ্ধির কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবাখাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে জেলার অবদান আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।