অনুষ্ঠানে খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, গত এক বছরে অনেক দর্শকের অভিযোগ, রুমিন ফারহানা আওয়ামী লীগের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন এবং দলটির রাজনৈতিক বয়ান টিকিয়ে রাখার কাজ করছেন। এমনকি কেউ কেউ তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন।
পরে খালেদ মুহিউদ্দীন সরাসরি জানতে চান, তিনি গোপনে আওয়ামী লীগ করেন কি না।
উত্তরে রুমিন বলেন, না আমি আওয়ামী লীগ করি না; অবশ্যই আমি আওয়ামী লীগ করি না। আমি আপনাকে কিন্তু এ উত্তরটা দিয়েছি যে যখন আপনার প্রতিপক্ষের হাত থেকে তলোয়ার পড়বে তখন তাকে আঘাত করা সবচেয়ে বড় কাপুরুষের কাজ। আমি আপনাকে তখনই বীর বলব যখন আপনার প্রতিপক্ষ তার সর্বোচ্চ শক্তির অবস্থানে থাকা অবস্থায় আঘাত করবেন। আওয়ামী লীগ যখন তার সর্বোচ্চ শক্তিশালী অবস্থায় ছিল তখন আজকে যারা কমেন্ট করছেন- তাদের নিয়ে কিছু বলা কি ঠিক হবে?
এর জবাবে রুমিন বলেন, একদম সিম্পল—হ্যাঁ, যার প্রতি অন্যায় হচ্ছে, আমি তার পক্ষেই কথা বলছি।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ের শাসনের প্রসঙ্গ টেনে উপস্থাপক জানতে চান, যারা অতীতে অন্যায় করেছে, তাদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ন্যায়ের কথা বলা উচিত কি না। জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, অন্যায়ের জবাবে আরেকটি অন্যায় গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তিনি বলেন, ঘৃণার পালটা ঘৃণা যখন আপনি শুরু করবেন- তখন ঘৃণার চাষের বাইরে আপনি কিছু দেখবেন না। মানে ‘অ্যান আই ফর অ্যান আই মেইক্স দ্য হোল ওয়ার্ল্ড ব্লাইন্ড’ (চোখের বদলে চোখ নিতে থাকলে পৃথিবী অন্ধ হয়ে যাবে)। আমি সেটা করব না তো। আপনি যে আওয়ামী লীগের চেয়ে বেটার- আপনি আওয়ামী লীগকে সরাইছেন কেন- কারণ আওয়ামী লীগ খারাপ ছিল। আপনি যদি সেই মিথ্যা মামলা দেন, আপনি যদি সেই গায়েব মামলা দেন, আপনি যদি শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তার এই বয়সে খুনের মামলা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন; আপনি যদি সেটাই আবার করেন তাহলে আওয়ামী লীগের দোষ কী ছিল।
বিরোধী দলের নেত্রীকে (খালেদা জিয়া) হেনস্থা করা হয়েছিল- তখন সেটা যদি আমাদের কষ্ট লেগে থাকে তাহলে আজকে যখন আবার কাউকে না কাউকে রাজনীতি করার কারণে এভাবে হেনস্থা করছে কেউ না কেউ। তখন তো আমার সেটার প্রতিবাদ করতে হবে- তা না হলে তো আমার আগে প্রতিবাদটা লেজিটিমেট হয় না। তার মানে কী- যখন আমি ব্যক্তি দেখে প্রতিবাদ বেছে নেই; তখন আমি আসলে ন্যায়টাকে সমর্থন করি না, আমি ব্যক্তির চর্চাটা করতে চাই, তাই না খালেদ ভাই।

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 





















