সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত রাবি অধ্যাপক

যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।

তদন্ত প্রক্রিয়া ও শাস্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, “তার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অ্যাকাডেমিক দুর্নীতির দায়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল। কমিটি দুটি তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে তার একজন প্রতিনিধি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দেননি। তার বক্তব্যগুলো বিভিন্ন সময়ে লিখিত আকারে পাঠিয়েছেন। উচ্চতর কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেট তার শাস্তির অনুমোদন দিয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, “তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।”

এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট অধ্যাপক প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে তার চেম্বারে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। ক্লাসে উপস্থিতির নম্বর ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে ওই শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষকের চেম্বারে যান।

পরবর্তীতে শিক্ষকের কক্ষে গেলে শিক্ষক তাকে সাজেশনের কথা বলে পরীক্ষার প্রশ্ন দেন এবং ছবি তুলতে নিষেধ করে খাতায় উত্তর লিখতে বলেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর শরীরের একাধিক স্থানে অশোভন স্পর্শ করেন এবং কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। পরে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ওই বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। এ ঘটনা তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। তাদের তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিকতর তদন্ত করে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

যৌন হয়রানির অভিযোগে চাকরিচ্যুত রাবি অধ্যাপক

প্রকাশিত সময় : ১০:১৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

যৌন হয়রানি ও একাডেমিক দুর্নীতির অভিযোগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক প্রভাস কুমারকে স্থায়ীভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বিষয়টি জানিয়েছেন।

তদন্ত প্রক্রিয়া ও শাস্তির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, “তার বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি ও অ্যাকাডেমিক দুর্নীতির দায়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল। কমিটি দুটি তাকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী একটি উচ্চতর কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিতে তার একজন প্রতিনিধি দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি দেননি। তার বক্তব্যগুলো বিভিন্ন সময়ে লিখিত আকারে পাঠিয়েছেন। উচ্চতর কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী সিন্ডিকেট তার শাস্তির অনুমোদন দিয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, “তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিক তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। কমিটির প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী গত সিন্ডিকেট সভায় তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।”

এর আগে গত বছরের ৪ আগস্ট অধ্যাপক প্রভাস কুমারের বিরুদ্ধে নিজ বিভাগের এক ছাত্রীকে তার চেম্বারে ডেকে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। ক্লাসে উপস্থিতির নম্বর ও পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে ওই শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষকের চেম্বারে যান।

পরবর্তীতে শিক্ষকের কক্ষে গেলে শিক্ষক তাকে সাজেশনের কথা বলে পরীক্ষার প্রশ্ন দেন এবং ছবি তুলতে নিষেধ করে খাতায় উত্তর লিখতে বলেন। এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষক ওই শিক্ষার্থীর শরীরের একাধিক স্থানে অশোভন স্পর্শ করেন এবং কুরুচিপূর্ণ প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। পরে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে ওই বছরের ১৩ আগস্ট বিভাগের সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। এ ঘটনা তদন্তে বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়। তাদের তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অধিকতর তদন্ত করে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।