প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার জন্য ‘বৈরী’ আখ্যা দিয়ে চলতি সপ্তাহের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার ঘোষণা দেন ট্রাম্প।
এর পর বুধবার ট্রাম্প জানান, চলতি বছরের শেষ দিকে কিমের সঙ্গে তার আবারও বৈঠক হতে পারে। এরই মধ্যে জাপান সাগরের পূর্ব উপকূলে ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে উত্তর কোরিয়া।
উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা পুনরায় শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করতে ট্রাম্প আগ্রহী বলে সংশ্লিষ্ট আলোচনার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে ইরান যুদ্ধেরও এখনই অবসানের কোনো স্পষ্ট সম্ভাবনা নেই। এর মধ্যেই ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা, সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করছে উত্তর কোরিয়া।
ট্রাম্পের নতুন উদ্যোগের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়াও ব্যক্তিগত পর্যায়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে সিউলের কর্মকর্তাদের মধ্যে এখনও উদ্বেগ রয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। প্রেসিডেন্ট এবং কিম জং উন উপযুক্ত সময়ে আবারও বৈঠক করবেন।
তবে উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, কিম ও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলের চেয়ে আলাদা করে দেখছে পিয়ংইয়ং।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন। তার মতে, মহড়া অব্যাহত রাখাই আগ্রাসী নীতির প্রমাণ এবং উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নীতি এখনও বৈরী।
তিনি একই সঙ্গে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে সাম্প্রতিক কোনো যোগাযোগের কথা অস্বীকার করলেও দুই নেতার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে চমৎকার বলে উল্লেখ করেছেন।
পিয়ংইয়ংয়ের শর্ত কী?
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া নতুন করে আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন চাইতে পারে। এর মধ্যে উত্তর কোরিয়ার দৃষ্টিতে বৈরী নীতিগুলো প্রত্যাহার এবং দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতাকে স্বীকৃতি দেওয়া অথবা অন্তত পরমাণু নিরস্ত্রীকরণকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হিসেবে না রাখার ঘোষণা অন্যতম হতে পারে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে ওয়াশিংটন এখনও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২০১৮ ও ২০১৯ সালে ট্রাম্প ও কিমের মধ্যে নজিরবিহীন কয়েকটি বৈঠক হয়েছিল। তবে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কারণে শেষ পর্যন্ত সেই কূটনৈতিক উদ্যোগ ভেস্তে যায়
এদিকে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের তুলনায় এবার কিমের আলোচনায় ফেরার আগ্রহ কম হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ গত কয়েক বছরে উত্তর কোরিয়া চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করেছে। দুই দেশের সঙ্গে বাণিজ্যও দেশটির অর্থনীতিকে কিছুটা শক্তিশালী করেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক স্টিমসন সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক জেনি টাউন বলেন, উত্তর কোরিয়ার এখন এমন কয়েকটি বিকল্প রয়েছে, যেখানে তাদের বড় কোনো ছাড় দিতে হচ্ছে না। ফলে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় ছাড় দেওয়ার প্রত্যাশা থাকলে আলোচনায় দ্রুত ফিরতে কিমের তেমন আগ্রহ নাও থাকতে পারে।
তবে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ নয়
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সরাসরি আলোচনার প্রত্যাখ্যান হিসেবেও দেখা ঠিক হবে না। বরং পিয়ংইয়ং যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও নমনীয় করার জন্য চাপ তৈরি করছে।
কোরিয়া ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের জ্যেষ্ঠ গবেষক হং মিন বলেন, কিম ইয়ো জংয়ের বক্তব্যে কূটনীতির সম্ভাবনা খোলা রাখা হয়েছে। তার মতে, উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের মনোভাব বুঝে ভবিষ্যৎ আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে এখন সরাসরি আলোচনার চেয়ে একে অপরের অবস্থান যাচাই এবং বার্তা দেওয়ার একটি নতুন পর্যায় শুরু হয়েছে।
সূত্র : রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 























