১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী কবি।
মাত্র ২৩ বছরের সৃষ্টিশীল জীবনে নজরুল বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে উপহার দেন অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি। কবিতা ও গান ছাড়াও হামদ, নাত, গজল, নাটক ও শ্যামাসংগীতসহ সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি রেখে গেছেন অনন্য প্রতিভার স্বাক্ষর।
তাঁর কবিতা, গান ও সাহিত্যকর্ম মানুষের মধ্যে জাগিয়েছে নবচেতনা এবং শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি মানবমুক্তির আকাঙ্ক্ষায় ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধেও সক্রিয়ভাবে সংগ্রামে যুক্ত হন তিনি।
এই দ্বৈত সত্তাই নজরুলকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তাঁর বাঁশিতে যেমন প্রেম ও মানবতার সুর, তেমনি রণ-তূর্যে অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের আহ্বান।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে সপরিবারে কবিকে বাংলাদেশে আনা হয়। তাঁকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বসবাসের জন্য রাজধানীর ধানমণ্ডিতে একটি বাড়িও দেওয়া হয়।
১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে নাগরিকত্ব দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি তিনি ভূষিত হন একুশে পদকে।
নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
সময় পেরিয়েছে পাঁচ দশক, বদলেছে সমাজ ও রাষ্ট্রের নানা বাস্তবতা; কিন্তু নজরুলের সাম্য, মানবতা ও দ্রোহের বার্তা আজও মানুষের অধিকার ও মুক্তির সংগ্রামে নতুন করে উচ্চারিত হয়।

রিপোর্টারের নাম 
























