রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে ৩ নারী সংবাদিককে যৌন হয়রানির অভিযোগ

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবার (৩ অক্টোবর) একটি বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন তিন নারী সাংবাদিক। এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তারা ‘সুষ্ঠু’ তদন্তের জন্য অভিযোগগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে স্থানান্তর করেছে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভের সংবাদ কাভারের সময় পুলিশকর্মীদের যৌন হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিন নারী সাংবাদিক।

ভুক্তভোগী এক নারী সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, তিনি যখন পুলিশের কর্মকাণ্ড ভিডিও করছিলেন, তখন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগত তাকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।

তিনি আরো জানান, এরপর তিনি ও অন্যান্য সাংবাদিকরা থানায় মামলা দায়ের করতে যান, কিন্তু অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযোগুলো হাতে পেয়েছে এবং ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সেগুলোকে ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে’।

সাংবাদিকদের প্রতি পুলিশের এমন আচরণে “বিস্ময় ও ক্ষোভ’ প্রকাশ করেছে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, “গণতন্ত্রে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। সাংবাদিকদের কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করার এবং বিভিন্ন দাবিতে জমায়েত হওয়া মানুষেদের সংবাদ সংগ্রহ করার পুরো অধিকার থাকা উচিত। দেশের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলেও যদি এমন কাজের অনুমতি না মেলে, তাহলে তা ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ভবিষ্যতের জন্য ভালো লক্ষণ নয়।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “দিল্লি পুলিশের উচিত নারী সাংবাদিকদের অভিযোগে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া এবং এটি নিশ্চিত করা যেন সংবাদকর্মীরা কোনো রকম হুমকির মুখে না পড়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।”

এর আগে শনিবার, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী এই বিক্ষোভের সময় দিল্লি পুলিশের হাতে নারীদের হেনস্থার অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন।

লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে বলেন, যেহেতু দিল্লি পুলিশ সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন, তাই অমিত শাহকে অবশ্যই এর জবাব দিতে হবে।

পোস্টে তিনি লিখেন, “এক নারী সংবাদিক যন্তর মন্তরে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন। শত শত সাংবাদিক ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কেবল একটাই দাবি নিয়ে সেখানে বসে আছেন যে- একটি এফআরআর নথিভুক্ত করা হোক। এটি কি পুলিশের প্রাথমিক দায়িত্ব নয়? অথচ তারা সেটিও করেনি।”

তিনি জানান, কেবল শনিবারই যন্তর মন্তর থেকে শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরো লেখেন, “নারী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সাংবাদিকদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর এটি প্রথমবার নয়- এর আগেও পুলিশকর্মীদের নারীদের সঙ্গে জঘন্য অসদাচরণের ভিডিও প্রমাণ আমরা দেখেছি।”

তিনি আরো লেখেন, ‘“দিল্লিজুড়ে নারীরা ও শিক্ষাথীরা নিজেদের নিরাপত্তার ভয়ে সত্যাগ্রহ আন্দোলন করছেন, কিন্তু নারীদের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশই তাদের বিরুদ্ধে হাত তুলছে। যে সরকার একজন নারীর অভিযোগও নথিভুক্ত করতে ভয় পায়- তারা আসলে কার সুরক্ষা দিচ্ছে? দিল্লি পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। অমিত শাহকে এর জবাব দিতেই হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘মানুষের চেয়ে পশুদের বিশ্বাস করা আমার কাছে সহজ’

দিল্লিতে বিক্ষোভে পুলিশের বিরুদ্ধে ৩ নারী সংবাদিককে যৌন হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশিত সময় : ০৫:১১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে শনিবার (৩ অক্টোবর) একটি বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছেন তিন নারী সাংবাদিক। এদিকে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তারা ‘সুষ্ঠু’ তদন্তের জন্য অভিযোগগুলো ক্রাইম ব্রাঞ্চে স্থানান্তর করেছে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভের সংবাদ কাভারের সময় পুলিশকর্মীদের যৌন হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিন নারী সাংবাদিক।

ভুক্তভোগী এক নারী সাংবাদিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, তিনি যখন পুলিশের কর্মকাণ্ড ভিডিও করছিলেন, তখন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিবেক ভগত তাকে অনুপযুক্তভাবে স্পর্শ করেন এবং ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেন।

তিনি আরো জানান, এরপর তিনি ও অন্যান্য সাংবাদিকরা থানায় মামলা দায়ের করতে যান, কিন্তু অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে নথিভুক্ত করা হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিযোগুলো হাতে পেয়েছে এবং ‘সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সেগুলোকে ক্রাইম ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছে’।

সাংবাদিকদের প্রতি পুলিশের এমন আচরণে “বিস্ময় ও ক্ষোভ’ প্রকাশ করেছে প্রেস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া।

এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, “গণতন্ত্রে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মেনে নেওয়া যায় না। সাংবাদিকদের কোনো ভয়ভীতি ছাড়াই স্বাধীনভাবে কাজ করার এবং বিভিন্ন দাবিতে জমায়েত হওয়া মানুষেদের সংবাদ সংগ্রহ করার পুরো অধিকার থাকা উচিত। দেশের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলেও যদি এমন কাজের অনুমতি না মেলে, তাহলে তা ভারতের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ভবিষ্যতের জন্য ভালো লক্ষণ নয়।”

বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, “দিল্লি পুলিশের উচিত নারী সাংবাদিকদের অভিযোগে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়া এবং এটি নিশ্চিত করা যেন সংবাদকর্মীরা কোনো রকম হুমকির মুখে না পড়ে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারেন।”

এর আগে শনিবার, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী এই বিক্ষোভের সময় দিল্লি পুলিশের হাতে নারীদের হেনস্থার অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন।

লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে বলেন, যেহেতু দিল্লি পুলিশ সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন, তাই অমিত শাহকে অবশ্যই এর জবাব দিতে হবে।

পোস্টে তিনি লিখেন, “এক নারী সংবাদিক যন্তর মন্তরে এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছেন। শত শত সাংবাদিক ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে কেবল একটাই দাবি নিয়ে সেখানে বসে আছেন যে- একটি এফআরআর নথিভুক্ত করা হোক। এটি কি পুলিশের প্রাথমিক দায়িত্ব নয়? অথচ তারা সেটিও করেনি।”

তিনি জানান, কেবল শনিবারই যন্তর মন্তর থেকে শত শত মানুষকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরো লেখেন, “নারী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সাংবাদিকদের টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আর এটি প্রথমবার নয়- এর আগেও পুলিশকর্মীদের নারীদের সঙ্গে জঘন্য অসদাচরণের ভিডিও প্রমাণ আমরা দেখেছি।”

তিনি আরো লেখেন, ‘“দিল্লিজুড়ে নারীরা ও শিক্ষাথীরা নিজেদের নিরাপত্তার ভয়ে সত্যাগ্রহ আন্দোলন করছেন, কিন্তু নারীদের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা পুলিশই তাদের বিরুদ্ধে হাত তুলছে। যে সরকার একজন নারীর অভিযোগও নথিভুক্ত করতে ভয় পায়- তারা আসলে কার সুরক্ষা দিচ্ছে? দিল্লি পুলিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। অমিত শাহকে এর জবাব দিতেই হবে।”