বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২৮ বিচারককে শোকজ নিয়ে যা বললেন হাসনাত

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে শোকজ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের ব্যাখা দিতে বলা হয়েছে।

ভয় দেখানোর জন্য বিচারকদের শোকজ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ। আজ বুধবার নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। নিচে তার ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হলো:

২৮ জন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে, কারণ তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে কিছু মতামত লিখেছিলেন।

এই জায়গাটাই সবচেয়ে চিন্তার। বিচারকদের নিজেদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা করার জায়গাটাও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?

স্ক্রিনশট নিয়ে বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, এটা স্পষ্টভাবে একটা ভয় দেখানোর চেষ্টা। বার্তাটা খুব পরিষ্কার: “চুপ থাকুন, না হলে সমস্যায় পড়বেন।”

৫ আগস্টের পর একটা সময় মনে হয়েছিল, বিচারকরা অন্তত কিছুটা সাহস নিয়ে ভাবতে, লিখতে পারছেন এবং ভবিষ্যতেও লিখবেন। এখন যা হচ্ছে, তাতে সেই পরিবেশটা আবার ধীরে ধীরে ভয়ের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। বিচার বিভাগে যদি এই ধরণের চাপ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার জায়গাটাও দুর্বল হয়ে যায়।

এটা কোনো ব্যক্তির বিষয় না, এটা একটা সিস্টেমের বিষয়। বিচারকদের কণ্ঠ যদি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত এর ক্ষতিপূরণ পুরো দেশকেই দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তটা অন্তত পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

বিচার বিভাগকে ভয় দেখিয়ে শক্তিশালী করা যায় না, বরং দুর্বল করে ফেলা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

২৮ বিচারককে শোকজ নিয়ে যা বললেন হাসনাত

প্রকাশিত সময় : ০৮:১১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ায় অধস্তন আদালতের ২৮ বিচারককে শোকজ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের ব্যাখা দিতে বলা হয়েছে।

ভয় দেখানোর জন্য বিচারকদের শোকজ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ। আজ বুধবার নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন। নিচে তার ফেসবুক পোস্টটি তুলে ধরা হলো:

২৮ জন বিচারককে শোকজ করা হয়েছে, কারণ তারা নিজেদের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে কিছু মতামত লিখেছিলেন।

এই জায়গাটাই সবচেয়ে চিন্তার। বিচারকদের নিজেদের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা করার জায়গাটাও যদি নিরাপদ না থাকে, তাহলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আসলে কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?

স্ক্রিনশট নিয়ে বিচারকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, এটা স্পষ্টভাবে একটা ভয় দেখানোর চেষ্টা। বার্তাটা খুব পরিষ্কার: “চুপ থাকুন, না হলে সমস্যায় পড়বেন।”

৫ আগস্টের পর একটা সময় মনে হয়েছিল, বিচারকরা অন্তত কিছুটা সাহস নিয়ে ভাবতে, লিখতে পারছেন এবং ভবিষ্যতেও লিখবেন। এখন যা হচ্ছে, তাতে সেই পরিবেশটা আবার ধীরে ধীরে ভয়ের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। বিচার বিভাগে যদি এই ধরণের চাপ থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার জায়গাটাও দুর্বল হয়ে যায়।

এটা কোনো ব্যক্তির বিষয় না, এটা একটা সিস্টেমের বিষয়। বিচারকদের কণ্ঠ যদি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়, তাহলে শেষ পর্যন্ত এর ক্ষতিপূরণ পুরো দেশকেই দিতে হবে। এই সিদ্ধান্তটা অন্তত পুনর্বিবেচনা করা দরকার।

বিচার বিভাগকে ভয় দেখিয়ে শক্তিশালী করা যায় না, বরং দুর্বল করে ফেলা হয়।