বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমাকে মেরেছে’, গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে মারাত্মক অভিযোগ মমতার

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বিকেল থেকে একাধিকার এই কেন্দ্রে ভোট গণনা থমকে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সময় রাত পৌনে আটটার দিকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মমতা অভিযোগ করেন, গণনা কেন্দ্রে ব্যাপক কারচুপি, এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে, এমনকি তাকেও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। তৃণমূল নেত্রীর কথায়, “আমাকে মারা হয়েছে। প্রায় ১০০টা কেন্দ্রে ভোট লুট করা হয়েছে।”

মমতা বিরুদ্ধে এখানে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। গণনার শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কখনও মমতা এগিয়েছেন তো কয়েক রাউন্ড পরে শুভেন্দু। কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (রাত ৮টা পর্যন্ত), ভবানীপুরে হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।

​এদিন দীর্ঘক্ষণ সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনা কেন্দ্রের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে সন্ধ্যার দিক থেকে। মুখ্যমন্ত্রী বাইরে আসার ঠিক আগেই গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসেন তার অন্যতম প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। বাইরে অপেক্ষারত সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি।

বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় প্রথম অভিযোগ করেন যে, তাকে গণনা কেন্দ্রের ভেতরে মারধর করা হয়েছে এবং জোরপূর্বক সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তার এই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই গণনা কেন্দ্র থেকে বাইরে আসেন মমতা। এসময় দেখা যায়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় ৩০ জন নারী সদস্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছেন। সাংবাদিকরা তার প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য ভিড় জমালে একপ্রকার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

গণনা কেন্দ্র থেকে ​বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকার বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে মারা হয়েছে এবং জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মমতার অভিযোগ, তার দলের যে সব এজেন্টরা গণনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের প্রত্যেককে জোর করে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি, তাদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে এভাবেই বিরোধী পক্ষ ভোট লুট করেছে বলে দাবি তার।

এসময় সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান, তার গায়ে কারা হাত তুলেছে? মমতা বলেন, “সিআরপিএফ অউর বিজেপি বোথ। আমাদের কাউকে অ্যালাও করেনি গণনাকেন্দ্রে। ১০০টা সিট লুট করেছে।”

মমতার আরো অভিযোগ, শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছিল চূড়ান্ত হতাশাজনক। তিনি জানান, গণনা কেন্দ্রে অনিয়ম এবং এজেন্টদের মারধরের বিষয়ে তিনি বারবার নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কমিশন তার কোনো অভিযোগেই কর্ণপাত করেনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

‘আমাকে মেরেছে’, গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে মারাত্মক অভিযোগ মমতার

প্রকাশিত সময় : ১০:০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। বিকেল থেকে একাধিকার এই কেন্দ্রে ভোট গণনা থমকে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সময় রাত পৌনে আটটার দিকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় মমতা অভিযোগ করেন, গণনা কেন্দ্রে ব্যাপক কারচুপি, এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে, এমনকি তাকেও শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। তৃণমূল নেত্রীর কথায়, “আমাকে মারা হয়েছে। প্রায় ১০০টা কেন্দ্রে ভোট লুট করা হয়েছে।”

মমতা বিরুদ্ধে এখানে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। গণনার শুরু থেকেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। কখনও মমতা এগিয়েছেন তো কয়েক রাউন্ড পরে শুভেন্দু। কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (রাত ৮টা পর্যন্ত), ভবানীপুরে হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন বিজেপি প্রার্থী।

​এদিন দীর্ঘক্ষণ সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের গণনা কেন্দ্রের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে সন্ধ্যার দিক থেকে। মুখ্যমন্ত্রী বাইরে আসার ঠিক আগেই গণনা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসেন তার অন্যতম প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। বাইরে অপেক্ষারত সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি।

বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় প্রথম অভিযোগ করেন যে, তাকে গণনা কেন্দ্রের ভেতরে মারধর করা হয়েছে এবং জোরপূর্বক সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। তার এই মন্তব্যের রেশ কাটতে না কাটতেই গণনা কেন্দ্র থেকে বাইরে আসেন মমতা। এসময় দেখা যায়, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রায় ৩০ জন নারী সদস্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছেন। সাংবাদিকরা তার প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য ভিড় জমালে একপ্রকার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

গণনা কেন্দ্র থেকে ​বাইরে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকার বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাকে মারা হয়েছে এবং জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

মমতার অভিযোগ, তার দলের যে সব এজেন্টরা গণনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তাদের প্রত্যেককে জোর করে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি, তাদের গায়ে হাত তোলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে এভাবেই বিরোধী পক্ষ ভোট লুট করেছে বলে দাবি তার।

এসময় সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান, তার গায়ে কারা হাত তুলেছে? মমতা বলেন, “সিআরপিএফ অউর বিজেপি বোথ। আমাদের কাউকে অ্যালাও করেনি গণনাকেন্দ্রে। ১০০টা সিট লুট করেছে।”

মমতার আরো অভিযোগ, শুরু থেকেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছিল চূড়ান্ত হতাশাজনক। তিনি জানান, গণনা কেন্দ্রে অনিয়ম এবং এজেন্টদের মারধরের বিষয়ে তিনি বারবার নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কমিশন তার কোনো অভিযোগেই কর্ণপাত করেনি।