প্রকাশিত সময় :
১১:০৪:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
৩
গোপালগঞ্জে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি ট্রাকের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নূর হোসেন (২১) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকাল ৪টার দিকে সদর উপজেলার চেচানিয়া কান্দি এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নূর হোসেন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সোদার গ্রামের আজহারউদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, খুলনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘সুন্দরবন পরিবহন’ ও ‘জিএমএস পরিবহন’ নামের দুটি বাস মহাসড়কে পাল্লা দিয়ে চলছিল। চেচানিয়া কান্দি এলাকায় জিএমএস পরিবহনকে ওভারটেক করতে গিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সুন্দরবন পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় সুন্দরবন পরিবহনের পেছনে থাকা জিএমএস পরিবহনটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাস দুটি মহাসড়কের পাশের খাদে ছিটকে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে ২৬ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার পর ওই মহাসড়কে প্রায় ৩০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। ঢাকা থেকে খুলনা যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দুলাল মিয়া নামের সুন্দরবন পরিবহনের এক যাত্রী জানান, বাস দুটি শুরু থেকেই বেপরোয়া গতিতে একে অপরকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল। বারবার সংকেত দেওয়ার পরও কোনো চালক গতি কমাননি, যার ফলে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
গোপালগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক শিপলু আহমেদ ও ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মনোজিৎ নন্দী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত যানগুলো মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।