আজ রোববার (৯ আগস্ট) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, জেলা আমিরসহ আমাদের দায়িত্বশীল ও রুকনদের সতর্ক হতে হবে। নিজের অবস্থান মূল্যায়ন করতে হবে। আল্লাহ মুসলমানদের বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন। পরীক্ষা কখনো সহজ, কখনো কঠিন হয়। এটি তার সুন্নাহ। মূলত মুমিন জীবনের ময়লা পরিষ্কার করার জন্য আল্লাহ তাআলা পরীক্ষায় নিক্ষেপ করেন। এ পরীক্ষায় আমাদের উত্তীর্ণ হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীর ত্যাগকে আল্লাহ তায়ালা কবুল করেছেন। আল্লাহ তায়ালা তার ইচ্ছায় সংগঠনের শীর্ষ কয়েকজন দায়িত্বশীলকে তার কাছে তুলে নিয়েছেন। শীর্ষ দায়িত্বশীলসহ নেতা-কর্মীদের ত্যাগ-কোরবানির প্রেক্ষিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। আমাদের ত্যাগের তুলনায় কাশ্মীর, ফিলিস্তিন ও মিশরের মুসলিমরা আরও বেশি কষ্ট স্বীকার করছেন।
জামায়াত আমির বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে মাওলানা সাইয়্যেদ আবুল আলা মওদূদী কোরআন ও সুন্নাহর গভীরে প্রবেশ করে উম্মাহর জন্য কিছু রেখে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনিই যে সঠিক আর অন্যরা বেঠিক- আমরা তা মনে করি না। দ্বীনের জন্য তিনি সীমাহীন শ্রম দিয়ে গেছেন। তার খুরধার লেখনির মাধ্যমে তিনি বিশ্বে ইসলামী চিন্তাবিদ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন।
তিনি বলেন, সংগঠনের আস্থার জায়গায় কেউ আঘাত দিলে তার দিকে তাকানো হবে না। সর্বোচ্চ নৈতিক মানে পৌঁছাতে সক্ষম না হলেও, ন্যূনতম নৈতিক মান বজায় রাখতে হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তির হালাল রুজি, পারিবারিক ও সামাজিক অবস্থার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।
দায়িত্বশীলদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, যেসব কাজে সন্দেহ থাকবে, তা থেকে দূরে থাকা ভালো। কারণ, শয়তান আমাদের সংগঠনের দিকে ঝাপিয়ে পড়েছে। এজন্য একে অন্যের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। অভ্যন্তরীণ ফেতনার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সাম্রাজ্যবাদ আমাদের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়। বিদেশিরা উচ্চমূল্যে তাদের পণ্য আমাদের কিনতে বাধ্য করতে চায়, আর আমাদের সম্ভাবনাগুলোকে তাদের করায়ত্ত করতে চায়। সাম্রাজ্যবাদীদের বড় হাতিয়ার হলো মিডিয়া। সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠা করে দুটি প্রক্রিয়ায়। এর একটি হলো শিক্ষাকে ধ্বংস করে, আরেকটি হলো সংস্কৃতিকে ধ্বংস করে। এটি তারা করে মিডিয়ার মাধ্যমে। আমাদের সজাগ ও সাবধানে চলতে হবে।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা পররাষ্ট্রনীতি ও ব্যবসা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংরক্ষণে বিশ্বাসী। একই সঙ্গে আমরা সব দেশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে পারস্পরিক সম্মানজনক ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক চাই।
জামায়াত আমির বলেন, সমাজ আমাদের কাছে আমানত। চোখ ও কান খোলা রাখতে হবে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে। দায়িত্বশীলদের উত্তম পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করতে হবে। সমাজের ছোট বিষয়ে নজর না দিয়ে বড় বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে। কারণ মানুষ শক্ত আশ্রয় চায়, তা দিতে হবে। সমাজের সর্বস্তরে সুদ, ঘুষ ও মানুষের ইজ্জতের উপর হামলা চালানো হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য লুন্ঠন করা হচ্ছে। এজন্য মানুষ জামায়াতের উপর আস্থা রাখতে চায়।
আমিরে জামায়াত বলেন, জামায়াতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে, সংগঠনকে বিতর্কিত করতে যেকোনো ঘটনাকে শতগুণ বাড়িয়ে প্রচার করা হচ্ছে। ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আল্লাহর সাহায্য চাইতে হবে, আল্লাহ চাইলে মোকাবিলা করা যাবে। তার উপরই ভরসা করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীলরা মানবিক হলে সংগঠন মানবিক রূপ লাভ করবে। গোটা দেশ মানবিক হয়ে যাবে। আল্লাহ আমাদের প্রত্যাশার মঞ্জিলে পৌঁছে দেবেন ইনশাআল্লাহ

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 

























