রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক: পারস্পরিক স্বার্থের কথা বললেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতকে ‘পারস্পরিক স্বার্থ’ বিবেচনা করে একটি ‘সাধারণ অবস্থানে’ পৌঁছাতে হবে। শনিবার ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডারস ফোরামে তিনি এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

জয়শঙ্করের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার দাবিকে তিনি কীভাবে দেখেন, এই প্রশ্নের জবাবে  জয়শঙ্কর বলেন “আমাদের এবং একটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কী আলোচনা হতে পারে বা না হতে পারে, তা নিয়ে আমি এখানে বসে আলোচনা করতে যাচ্ছি না। দেখুন, আমি আপনাদের যা বলতে পারি তা হলো, যেকোনো সম্পর্ককে সফল হতে হলে তাতে পারস্পরিক স্বার্থের একটি স্তর থাকতে হবে। এটি তাদের জন্য কাজ করতে হবে, এটি আমাদের জন্যও কাজ করতে হবে। আমিও বাস্তববাদী। আমি আশা করি না যে প্রতিবেশীরা কেবল আমার স্বার্থেই কাজ করবে। তাদের স্বার্থকে আমার স্বীকৃতি ও সম্মান জানানোর একটি ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত মাত্রা থাকতে হবে, ঠিক যেমন আমি তাদের কাছ থেকেও তা আশা করি। যখন আপনি সেই সমঝোতার বিন্দুতে, সেই সাধারণ ভিত্তিতে পৌঁছান, তখনই সম্পর্কগুলো মসৃণভাবে চলে। তাই, আমি সব প্রতিবেশীর ক্ষেত্রেই বলব যে, দিনশেষে সম্পর্ক হলো এক ধরনের পারস্পরিকতা, যা এই পুরো প্রক্রিয়ার ভিত্তি।”

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্ক কিছুটা ভালো হচ্ছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে, অডিও লিঙ্কের মাধ্যমে নয়াদিল্লিতে তার প্রকাশ্য বক্তব্য ঢাকাকে ক্ষুব্ধ করেছে। ঢাকা তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের দাবি করে আসছে। এই ঘটনাটি রহমানের ভারত সফরের ওপরও কালো ছায়া ফেলেছে, যা নিয়ে দুই পক্ষই আলোচনা চালাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তটিনীর দুই লুকেই ফুটে উঠছে দেশি ফ্যাশনের ছোঁয়া

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক: পারস্পরিক স্বার্থের কথা বললেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত সময় : ০৫:৫৫:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতকে ‘পারস্পরিক স্বার্থ’ বিবেচনা করে একটি ‘সাধারণ অবস্থানে’ পৌঁছাতে হবে। শনিবার ইকোনমিক টাইমস ওয়ার্ল্ড লিডারস ফোরামে তিনি এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

জয়শঙ্করের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ঢাকার দাবিকে তিনি কীভাবে দেখেন, এই প্রশ্নের জবাবে  জয়শঙ্কর বলেন “আমাদের এবং একটি প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কী আলোচনা হতে পারে বা না হতে পারে, তা নিয়ে আমি এখানে বসে আলোচনা করতে যাচ্ছি না। দেখুন, আমি আপনাদের যা বলতে পারি তা হলো, যেকোনো সম্পর্ককে সফল হতে হলে তাতে পারস্পরিক স্বার্থের একটি স্তর থাকতে হবে। এটি তাদের জন্য কাজ করতে হবে, এটি আমাদের জন্যও কাজ করতে হবে। আমিও বাস্তববাদী। আমি আশা করি না যে প্রতিবেশীরা কেবল আমার স্বার্থেই কাজ করবে। তাদের স্বার্থকে আমার স্বীকৃতি ও সম্মান জানানোর একটি ন্যায্য ও যুক্তিসঙ্গত মাত্রা থাকতে হবে, ঠিক যেমন আমি তাদের কাছ থেকেও তা আশা করি। যখন আপনি সেই সমঝোতার বিন্দুতে, সেই সাধারণ ভিত্তিতে পৌঁছান, তখনই সম্পর্কগুলো মসৃণভাবে চলে। তাই, আমি সব প্রতিবেশীর ক্ষেত্রেই বলব যে, দিনশেষে সম্পর্ক হলো এক ধরনের পারস্পরিকতা, যা এই পুরো প্রক্রিয়ার ভিত্তি।”

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক রহমান বাংলাদেশের দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্পর্ক কিছুটা ভালো হচ্ছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট, হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে, অডিও লিঙ্কের মাধ্যমে নয়াদিল্লিতে তার প্রকাশ্য বক্তব্য ঢাকাকে ক্ষুব্ধ করেছে। ঢাকা তাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের দাবি করে আসছে। এই ঘটনাটি রহমানের ভারত সফরের ওপরও কালো ছায়া ফেলেছে, যা নিয়ে দুই পক্ষই আলোচনা চালাচ্ছে।