দুর্নীতির কেলেঙ্কারি, অর্থনৈতিক উদ্বেগ এবং মার্কিন হস্তক্ষেপের অভিযোগের আবহে রবিবার ব্রাজিলে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের নির্বাচনের প্রথম ধাপ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বামপন্থী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা (৮০) চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ৪৫ বছর বয়সী ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো তার বাবার দক্ষিণপন্থী আন্দোলনকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার আশা করছেন।
ফ্লাভিও বলসোনারোর জয় লাতিন আমেরিকাজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-ঘনিষ্ঠ দক্ষিণপন্থী প্রার্থীদের জয়ের ধারাকে আরো প্রসারিত করবে। অন্যদিকে, লুলার পুনঃনির্বাচন ওয়াশিংটনের জন্য মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। কারণ বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যুতে তার সরকারের সাথে ওয়াশিংটনের মতবিরোধ রয়েছে।
ব্রাজিলের সরকারি অর্থব্যবস্থা ও মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনী প্রচারণায় নীতিগত বিতর্কের অভাব ছিল। কারণ প্রধান দুই প্রার্থীই বড় ধরনের টেলিভিশন বিতর্কে অংশ নেননি।
যদি কোনো প্রার্থী বৈধ ভোটের ৫০ শতাংশের বেশি না পান, তবে শীর্ষ দুই প্রার্থী ২৫ অক্টোবর চূড়ান্ত লড়াইয়ে (রান অফ) মুখোমুখি হবেন। জনমত জরিপ অনুযায়ী, সম্ভাব্য রানঅফে লুলা ও ফ্লাভিও বলসোনারোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
অন্যান্য প্রার্থী—যেমন সাবেক অঙ্গরাজ্য গভর্নর রোনালদো কাইয়াদো ও রোমিও জেমা বিভক্ত ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে হিমশিম খাচ্ছেন। অথচ জরিপ বলছে, লুলা ও ফ্লাভিও বলসোনারো—উভয়কেই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক অংশই প্রত্যাখ্যান করছেন।
ফ্লাভিও বলসোনারো তার বাবার জন্য সাধারণ ক্ষমার (অ্যামনেস্টি) ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে পরাজয়ের পর অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে তার বাবা ২৭ বছরেরও বেশি কারাদণ্ড ভোগ করছেন। লুলা এই নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্র বনাম অস্বীকৃতিবাদ’-এর মধ্যকার লড়াই হিসেবে তুলে ধরেছেন এবং বারবার বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করেছেন।
গত বছর জাইর বলসোনারোর দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনাটি নির্বাচনী প্রচারণায় বড় প্রভাব ফেলেছে। ট্রাম্প ওই মামলাকে ‘উইচ হান্ট’ বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দমন-পীড়ন বলে অভিহিত করেছিলেন। তিনি ২০২৫ সালে ব্রাজিলের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। বলসোনারো পরিবারের পক্ষ থেকে ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের ওপর অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টির লবিংয়ের পর, ট্রাম্প স্পষ্টভাবে এই শুল্ক আরোপের বিষয়টিকে বলসোনারোর বিচারের সাথে যুক্ত করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 























