বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছয় শিশুর মৃত্যুর ব্যাখ্যা দিল আদ-দ্বীন হাসপাতাল

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘দুর্ঘটনাজনিত’ বলে দাবি করেছে। হাসপাতালের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন না থাকা এবং এসি বন্ধ থাকায় শ্বাসকষ্টের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান হাসপাতালের মহাপরিচালক (হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিং) অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন।

তিনি বলেন, যে ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে ১১ জন মা এবং ছয়জন সদ্য জন্ম নেওয়া শিশু ছিলেন। সিজারের পর নিয়মিতভাবেই ওই ওয়ার্ডে মা ও নবজাতকদের রাখা হয়।

তার দাবি, ওয়ার্ডটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় অনেক সময় রোগী বা স্বজনরা অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে এসি বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। ঘটনার রাতেও এমন কিছু হয়ে থাকতে পারে।

ডা. নাহিদা ইয়াসমিন জানান, রাত তিনটার দিকে দুটি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (NICU) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে শিশুদের স্থিতিশীল বলে আবার ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন।

তবে ভোর ৬টার পর দায়িত্বরত নার্স ও মায়েরা শিশুদের গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরে ছয় নবজাতককেই NICU-তে নেওয়া হলে দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি চারজনকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদেরও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, সংশ্লিষ্ট কক্ষে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ছিল না। তাদের ধারণা, এসি বন্ধ থাকায় কক্ষে অক্সিজেনের ঘাটতি বা সাফোকেশনের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ছয় শিশুর মৃত্যুর ব্যাখ্যা দিল আদ-দ্বীন হাসপাতাল

প্রকাশিত সময় : ০২:১২:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এটিকে ‘দুর্ঘটনাজনিত’ বলে দাবি করেছে। হাসপাতালের ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন না থাকা এবং এসি বন্ধ থাকায় শ্বাসকষ্টের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান হাসপাতালের মহাপরিচালক (হসপিটালস অ্যান্ড নার্সিং) অধ্যাপক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন।

তিনি বলেন, যে ওয়ার্ডে ঘটনাটি ঘটেছে সেখানে ১১ জন মা এবং ছয়জন সদ্য জন্ম নেওয়া শিশু ছিলেন। সিজারের পর নিয়মিতভাবেই ওই ওয়ার্ডে মা ও নবজাতকদের রাখা হয়।

তার দাবি, ওয়ার্ডটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় অনেক সময় রোগী বা স্বজনরা অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে এসি বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। ঘটনার রাতেও এমন কিছু হয়ে থাকতে পারে।

ডা. নাহিদা ইয়াসমিন জানান, রাত তিনটার দিকে দুটি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (NICU) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে শিশুদের স্থিতিশীল বলে আবার ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেন।

তবে ভোর ৬টার পর দায়িত্বরত নার্স ও মায়েরা শিশুদের গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দেখতে পান। পরে ছয় নবজাতককেই NICU-তে নেওয়া হলে দুই শিশুকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি চারজনকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদেরও বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাবি করে, সংশ্লিষ্ট কক্ষে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ছিল না। তাদের ধারণা, এসি বন্ধ থাকায় কক্ষে অক্সিজেনের ঘাটতি বা সাফোকেশনের কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে।