প্রকাশিত সময় :
০৬:২৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
৮
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গুপ্তচরবৃত্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে।
পেন্টাগন ইসরায়েলকে ঘিরে পাল্টা গোয়েন্দা (কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স) হুমকির মাত্রা সর্বোচ্চ শ্রেণিতে উন্নীত করেছে। কারণ, ওয়াশিংটনের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র হিসেবে বিবেচিত ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারির প্রচেষ্টা বাড়িয়েছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার এএনবিসি ও দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে। এতে এমন এক সম্পর্কের অন্তরালের টানাপোড়েন প্রকাশ পেয়েছে, যাকে ওয়াশিংটন সাধারণত প্রশ্নাতীত বলে ধরে নেয়।
পেন্টাগনের ডিফেন্স ইনটেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) সম্প্রতি এই নতুন মূল্যায়ন প্রকাশ করেছে। এর পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলের মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান মতবিরোধ।
মার্কিন কর্মকর্তারা এনবিসি-কে জানান, ডিআইএ একটি অভ্যন্তরীণ বার্তায় ইসরায়েলের হুমকির মাত্রা ‘অত্যন্ত গুরুতর’ পর্যায়ে উন্নীত করেছে।
এই শ্রেণিবিন্যাস থেকে বোঝা যায় যে পেন্টাগনের ভেতরে উদ্বেগ বেড়েছে—ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারি চালাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসংক্রান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ আলোচনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছে।
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশেষভাবে নজর দিচ্ছে ইসরায়েলের সেই প্রচেষ্টার ওপর, যার মাধ্যমে তারা ট্রাম্পের প্রধান আলোচক স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা এলব্রিজ এ. কোলবি এবং তার অন্যতম প্রধান সহকারী মাইকেল পি. ডিমিনো দ্য ফোর্থ-এর কথোপকথন আড়ি পেতে শোনার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কলবি অতীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্কের ‘পুনর্মূল্যায়ন’ বা ‘রিসেট’-এর পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলের পাল্টা গোয়েন্দা হুমকির মাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য যেকোনো মিত্র দেশের চেয়ে বেশি, এমনকি কিছু প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের চেয়েও বেশি বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে।
একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের সময় শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের গোয়েন্দা তৎপরতাকে ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ বলে বর্ণনা করেছেন।
গুরুতর হুমকি
একজন মার্কিন কর্মকর্তা এনবিসি-কে জানান, ডিআইএ-এর মূল্যায়নে সাত পৃষ্ঠার একটি নথি ও একটি চার্ট রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মানব গোয়েন্দা এবং প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহে ইসরায়েলের সক্ষমতা ‘গুরুতর পর্যায়ে’ পৌঁছেছে। এছাড়া কিছু নির্দিষ্ট ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা এনবিসি-কে বলেছেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড মিত্র রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রচলিত সীমিত গুপ্তচরবৃত্তির চর্চাকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে।
এই সতর্কবার্তা এমন সময় এলো, যখন ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও গভীর সামরিক সমন্বয় চায়। কংগ্রেসে একটি প্রস্তাব বিবেচনাধীন রয়েছে, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সেনাবাহিনী অস্ত্র গবেষণা, উৎপাদন এবং প্রযুক্তি উন্নয়নে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে—যা মূলত ইসরায়েলের জন্য বড় সুবিধা বয়ে আনবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পেন্টাগনের এই মূল্যায়নের ফলে ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ও ইসরায়েলের মধ্যে ভবিষ্যৎ সামরিক পরিকল্পনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে যদি মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েলের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদান সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছিল। অন্যদিকে ইসরায়েল প্রকাশ্যেই যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও যুদ্ধ শুরু করার জন্য চাপ দিচ্ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বোমা হামলার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং এ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প নাকি তাঁকে লেবাননে হামলা কমানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এই ঘটনা ওয়াশিংটনের পুরোনো একটি উদ্বেগকেও আবার সামনে এনেছে। ১৯৮০-এর দশকে মার্কিন নৌবাহিনীর গোয়েন্দা বিশ্লেষক জোনাথন পোলার্ড ইসরায়েলের কাছে বিপুল পরিমাণ গোপন নথি বিক্রি করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন এবং ৩০ বছর কারাভোগ করেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই