রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সন্তানের আবেগ বুঝতে বাবাদের যা করা উচিত

সন্তানেরা মায়ের সঙ্গে যত দ্রুত মিশে যেতে পারে, বাবার সঙ্গে তত দ্রুত নয়। কেন নয়?— তা আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয় নয়। আমরা জানি, সন্তানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য মানুষ একজন বাবা। বাবার সক্রিয় উপস্থিতি ও ইতিবাচক সম্পৃক্ততা সন্তানের আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সন্তানদের সঙ্গে সুস্থ ও গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা শুধু আবেগের বিষয় নয়, বরং শিশুর সামগ্রিক বিকাশের জন্যও অপরিহার্য।

ইউনিসেফ বলছে, সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানো বাবা-সন্তানের বন্ধনকে দৃঢ় করে তুলতে পারে। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় শুধু সন্তানের জন্য রাখুন—হতে পারে গল্প করা, হাঁটতে যাওয়া কিংবা একসঙ্গে খেলাধুলা করা। সময়ের পরিমাণের চেয়ে গুণগত সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন
সন্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার অন্যতম উপায় হলো সে কথা বলতে এলে তা গুরুত্ব দিয়ে শোনা। সন্তানের অনুভূতি, ভয়, আনন্দ কিংবা হতাশার কথা বিচার না করে শোনার চেষ্টা করুন। হার্ভার্ড হেলথের মতে, সহানুভূতির সঙ্গে শোনা এবং সন্তানকে অনুভব করানো যে তার কথা গুরুত্ব পাচ্ছে— যা সম্পর্ককে আরো ইতিবাচক করে তোলে।

সন্তানের পছন্দের কাজগুলোতে অংশ নিন
শুধু পড়াশোনা বা শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে সন্তানের আগ্রহের জায়গাগুলোতে অংশ নিতে পারেন। সন্তানের সঙ্গে খেলাধুলা, ছবি আঁকা, রান্না বা সিনেমা দেখা সম্পর্ককে সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুকেন্দ্রিক এবং আনন্দদায়ক কার্যক্রম বাবা-সন্তানের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।

ভুল হলে ক্ষমা চাইতে শিখুন
অনেক বাবা মনে করেন, সন্তানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই। ক্ষমা চাওয়াকে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখেন তারা। কিন্তু বাস্তবে ভুল স্বীকার এবং আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করলে সন্তানের কাছে বাবা আরো বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্ক মেরামতে ক্ষমা চাওয়া এবং সন্তানের অনুভূতিকে স্বীকৃতি দেওয়া খুবই কার্যকর।

ভালোবাসা প্রকাশে কার্পণ্য করবেন না
অনেক পরিবারে বাবারা ভালোবাসা অনুভব করলেও তা প্রকাশ করতে চান না। অথচ প্রশংসা, আলিঙ্গন, উৎসাহ বা ছোট ছোট ইতিবাচক মন্তব্য সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং আবেগগত নিরাপত্তা তৈরি করে। সুতরাং আপনার উচিত হলো সন্তানের সঙ্গে সেই আচরণ করা যাতে সে আবেগগত নিরাপত্তা বোধ করে।ইউনিসেফের মতে, শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য ভালোবাসা ও স্নেহ প্রকাশ অপরিহার্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সর্বাধিক পঠিত

রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে সাংগঠনিক সভায় তারেক রহমান

সন্তানের আবেগ বুঝতে বাবাদের যা করা উচিত

প্রকাশিত সময় : ০৯:৪০:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

সন্তানেরা মায়ের সঙ্গে যত দ্রুত মিশে যেতে পারে, বাবার সঙ্গে তত দ্রুত নয়। কেন নয়?— তা আজকে আমাদের আলোচ্য বিষয় নয়। আমরা জানি, সন্তানের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য মানুষ একজন বাবা। বাবার সক্রিয় উপস্থিতি ও ইতিবাচক সম্পৃক্ততা সন্তানের আত্মবিশ্বাস, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সন্তানদের সঙ্গে সুস্থ ও গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা শুধু আবেগের বিষয় নয়, বরং শিশুর সামগ্রিক বিকাশের জন্যও অপরিহার্য।

ইউনিসেফ বলছে, সন্তানের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানো বাবা-সন্তানের বন্ধনকে দৃঢ় করে তুলতে পারে। প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় শুধু সন্তানের জন্য রাখুন—হতে পারে গল্প করা, হাঁটতে যাওয়া কিংবা একসঙ্গে খেলাধুলা করা। সময়ের পরিমাণের চেয়ে গুণগত সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সন্তানের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন
সন্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার অন্যতম উপায় হলো সে কথা বলতে এলে তা গুরুত্ব দিয়ে শোনা। সন্তানের অনুভূতি, ভয়, আনন্দ কিংবা হতাশার কথা বিচার না করে শোনার চেষ্টা করুন। হার্ভার্ড হেলথের মতে, সহানুভূতির সঙ্গে শোনা এবং সন্তানকে অনুভব করানো যে তার কথা গুরুত্ব পাচ্ছে— যা সম্পর্ককে আরো ইতিবাচক করে তোলে।

সন্তানের পছন্দের কাজগুলোতে অংশ নিন
শুধু পড়াশোনা বা শৃঙ্খলা নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে সন্তানের আগ্রহের জায়গাগুলোতে অংশ নিতে পারেন। সন্তানের সঙ্গে খেলাধুলা, ছবি আঁকা, রান্না বা সিনেমা দেখা সম্পর্ককে সহজ ও স্বতঃস্ফূর্ত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুকেন্দ্রিক এবং আনন্দদায়ক কার্যক্রম বাবা-সন্তানের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।

ভুল হলে ক্ষমা চাইতে শিখুন
অনেক বাবা মনে করেন, সন্তানের কাছে ক্ষমা চাওয়ার কিছু নেই। ক্ষমা চাওয়াকে দুর্বলতার লক্ষণ হিসেবে দেখেন তারা। কিন্তু বাস্তবে ভুল স্বীকার এবং আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করলে সন্তানের কাছে বাবা আরো বিশ্বাসযোগ্য হয়ে ওঠেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পর্ক মেরামতে ক্ষমা চাওয়া এবং সন্তানের অনুভূতিকে স্বীকৃতি দেওয়া খুবই কার্যকর।

ভালোবাসা প্রকাশে কার্পণ্য করবেন না
অনেক পরিবারে বাবারা ভালোবাসা অনুভব করলেও তা প্রকাশ করতে চান না। অথচ প্রশংসা, আলিঙ্গন, উৎসাহ বা ছোট ছোট ইতিবাচক মন্তব্য সন্তানের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং আবেগগত নিরাপত্তা তৈরি করে। সুতরাং আপনার উচিত হলো সন্তানের সঙ্গে সেই আচরণ করা যাতে সে আবেগগত নিরাপত্তা বোধ করে।ইউনিসেফের মতে, শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য ভালোবাসা ও স্নেহ প্রকাশ অপরিহার্য।