রাজশাহী নগরীর কোর্ট এলাকায় মিশন স্কুলে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এক শিক্ষার্থী ছয়তলা ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে নগরের বুলনপুর এলাকার মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত ফারিনা আজিবা ঝিলিক (১৩) বিদ্যালয়টির অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে নগরের সুফিয়ানের মোড়ে পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় থাকত।
তার বাবা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সিটিএসবি শাখার একজন সদস্য।
পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
তবে এ ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি)।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এ ঘটনায় কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা তৃতীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, ওইদিন সকালে শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হচ্ছিল।
ফল প্রকাশের পর ঝিলিক শৌচাগারে যাওয়ার কথা বলে তৃতীয় তলার শ্রেণিকক্ষ থেকে বের হয়ে পাশের ছয়তলা ভবনে যায়। পরে ভবনের বারান্দা থেকে নিচে লাফ দেয়।
তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাটি বিদ্যালয়ের ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
মিশন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম বলেন, “মেয়েটা দীর্ঘদিন ধরে টিউবার কুলার মেনিন জাইটিস রোগে ভুগছিল এবং মাঝে মধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়ত।
তখন তার মা এসে স্কুল থেকে নিয়ে যেত। সে কেন এমন ঘটনা ঘটাল তা বুঝতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনার আগে শ্রেণিকক্ষে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়।
সে তুলনামূলক ভালো ফলও করে। তার রোল নম্বর ৬১ হলেও ফলাফলে সে ৩০তম স্থান অর্জন করে।”
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় রাতে রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলেও জানান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মইনুল ইসলাম।
এদিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) এক প্রতিবাদলিপিতে জানায়, শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভিডিও এবং তথ্য প্রচার করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা।
আরএমপির দেয়া তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা ৫৭ মিনিটে স্কুল চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীটি নিজেই সিঁড়ি বেয়ে ভবনের ষষ্ঠ তলায় উঠে।
এরপর সেখান থেকে লাফ দেয়। ভবনে ওঠা থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার পুরো ঘটনাই সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ রয়েছে।
পুলিশ আরও জানায়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিক্ষার্থীটি দীর্ঘদিন ধরে টিউবার কুলার মেনিন জাইটিস রোগে ভুগছিল এবং মাঝেমধ্যেই অজ্ঞান হয়ে পড়ত। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনে এ পর্যন্ত কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততা বা সন্দেহজনক ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি
তথ্য-প্রমাণ ছাড়া গুজব, অপপ্রচার বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে আরএমপি বলেছে, “যারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বা করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

রিপোর্টারের নাম 

























