রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজ্ঞাপন ঘিরে তুমুল সমালোচনার মুখে কৃতি শ্যানন

রক্ষা বন্ধন উপলক্ষে একটি গয়নার প্রতিষ্ঠানের নতুন বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। ভাই-বোনের ভালোবাসা ও সুরক্ষার বন্ধন উদযাপনের এই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর থেকেই কৃতির পোশাক এবং পোষ্য কুকুরকে রক্ষাবন্ধনের অংশ করার বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

বিজ্ঞাপনে কৃতিকে তার ভাইয়ের সঙ্গে রক্ষা বন্ধন উদ্‌যাপন করতে দেখা যায়। প্রথমে ভাইয়ের হাতে ঐতিহ্যবাহী রাখি পরিয়ে দেন তিনি। এরপর একইভাবে নিজের পোষ্য কুকুরের প্রতিও সেই ভালোবাসা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। পোষ্যকেও পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখানোর এই ভাবনাটিই বিজ্ঞাপনের অন্যতম বিষয়।

তবে অনেকের মতে, এতে ভাইয়ের তুলনায় কুকুরটির প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মিড-ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী কৃতির পোশাকের সমালোচনা করে লেখেন, রক্ষা বন্ধনের মতো উৎসবের বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রীকে ‘অল্প পোশাক’-এ দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে পোষ্য কুকুরের জন্য রাখি আনার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে ফেলেন তিনি। তার দাবি, এমন উপস্থাপনা রক্ষা বন্ধনের চেতনাকে ‘নষ্ট এবং অসম্মান’ করছে।

আরেক ব্যবহারকারী আরো কড়া ভাষায় কৃতির সমালোচনা করে লেখেন, ‘মানুষের উচিত তাকে নিষিদ্ধ করা’, একই সঙ্গে ভারতীয় উৎসবগুলোকে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ব্র্যান্ডগুলো কেন এভাবে উপস্থাপন করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অন্য ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের উপস্থাপনার তুলনাও করেন ওই ব্যবহারকারী।

তবে বিজ্ঞাপনটির পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকেই। এক ব্যবহারকারী মনে করেন, রক্ষা বন্ধন শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভালোবাসা, সুরক্ষা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবে পোষ্য প্রাণীর প্রতিও একই অনুভূতি প্রকাশ করা যেতে পারে।

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে মহাভারতের যুধিষ্ঠির ও তার বিশ্বস্ত কুকুরের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।
কৃতির পোশাক নিয়েও আলাদা করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক ব্যবহারকারী সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি রক্ষা বন্ধনে এমন পোশাক পরেন?’ আরেকজনের মতে, আরও সাধারণ ও রক্ষণশীল পারিবারিক পরিবেশে বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করা হলে সেটি হয়তো উৎসবের আবহ ও আবেগের সঙ্গে বেশি মানানসই হতো।

অন্যদিকে কৃতির ভক্তদের একটি অংশ অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের যুক্তি, রক্ষা বন্ধনের মূল বার্তা ভালোবাসা, যত্ন ও সুরক্ষা। পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচিত পোষ্যকে রাখি পরানোয় উৎসবের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব কোনোভাবেই কমে যায় না।

এক ভক্ত কৃতির ব্যক্তিগত পছন্দের পক্ষ নিয়ে লেখেন, এটি তার উৎসব এবং নিজের মতো করে উদ্‌যাপন করার স্বাধীনতা তাঁর রয়েছে। আরেকজন সবাইকে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বান জানিয়ে লেখেন, ‘শান্ত হোন’।

তার মতে, কৃতির পোশাক বা পোষ্যকে রাখি পরানোর চেয়ে দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মানুষের ভাবা উচিত।

সব মিলিয়ে কৃতির এই বিজ্ঞাপন ঘিরে তৈরি হয়েছে পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক। আধুনিক সময়ে ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে বিজ্ঞাপনে কীভাবে উপস্থাপন করা উচিত, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনেছে এই বিতর্ক। একই সঙ্গে পোষ্য প্রাণীকে পরিবারের অংশ হিসেবে রক্ষা বন্ধনের মতো উৎসবে যুক্ত করা ঐতিহ্যের সম্প্রসারণ, নাকি মূল চেতনা থেকে সরে যাওয়া—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন চলছে সেই আলোচনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিজ্ঞাপন ঘিরে তুমুল সমালোচনার মুখে কৃতি শ্যানন

প্রকাশিত সময় : ১০:৫৯:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
রক্ষা বন্ধন উপলক্ষে একটি গয়নার প্রতিষ্ঠানের নতুন বিজ্ঞাপনে অভিনয় করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের মুখে পড়েছেন বলিউড অভিনেত্রী কৃতি শ্যানন। ভাই-বোনের ভালোবাসা ও সুরক্ষার বন্ধন উদযাপনের এই বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর থেকেই কৃতির পোশাক এবং পোষ্য কুকুরকে রক্ষাবন্ধনের অংশ করার বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।

বিজ্ঞাপনে কৃতিকে তার ভাইয়ের সঙ্গে রক্ষা বন্ধন উদ্‌যাপন করতে দেখা যায়। প্রথমে ভাইয়ের হাতে ঐতিহ্যবাহী রাখি পরিয়ে দেন তিনি। এরপর একইভাবে নিজের পোষ্য কুকুরের প্রতিও সেই ভালোবাসা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। পোষ্যকেও পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখানোর এই ভাবনাটিই বিজ্ঞাপনের অন্যতম বিষয়।

তবে অনেকের মতে, এতে ভাইয়ের তুলনায় কুকুরটির প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মিড-ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিজ্ঞাপনটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক ব্যবহারকারী কৃতির পোশাকের সমালোচনা করে লেখেন, রক্ষা বন্ধনের মতো উৎসবের বিজ্ঞাপনে অভিনেত্রীকে ‘অল্প পোশাক’-এ দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে পোষ্য কুকুরের জন্য রাখি আনার বিষয়টিও প্রশ্নের মুখে ফেলেন তিনি। তার দাবি, এমন উপস্থাপনা রক্ষা বন্ধনের চেতনাকে ‘নষ্ট এবং অসম্মান’ করছে।

আরেক ব্যবহারকারী আরো কড়া ভাষায় কৃতির সমালোচনা করে লেখেন, ‘মানুষের উচিত তাকে নিষিদ্ধ করা’, একই সঙ্গে ভারতীয় উৎসবগুলোকে চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ব্র্যান্ডগুলো কেন এভাবে উপস্থাপন করছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অন্য ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে হিন্দু ধর্মীয় উৎসবের উপস্থাপনার তুলনাও করেন ওই ব্যবহারকারী।

তবে বিজ্ঞাপনটির পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকেই। এক ব্যবহারকারী মনে করেন, রক্ষা বন্ধন শুধু ভাই-বোনের সম্পর্কের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ভালোবাসা, সুরক্ষা ও দায়িত্ববোধের প্রতীক হিসেবে পোষ্য প্রাণীর প্রতিও একই অনুভূতি প্রকাশ করা যেতে পারে।

নিজের বক্তব্যের সমর্থনে মহাভারতের যুধিষ্ঠির ও তার বিশ্বস্ত কুকুরের প্রসঙ্গও টেনে আনেন তিনি।
কৃতির পোশাক নিয়েও আলাদা করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এক ব্যবহারকারী সরাসরি প্রশ্ন করেন, ‘আপনি কি রক্ষা বন্ধনে এমন পোশাক পরেন?’ আরেকজনের মতে, আরও সাধারণ ও রক্ষণশীল পারিবারিক পরিবেশে বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করা হলে সেটি হয়তো উৎসবের আবহ ও আবেগের সঙ্গে বেশি মানানসই হতো।

অন্যদিকে কৃতির ভক্তদের একটি অংশ অভিনেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের যুক্তি, রক্ষা বন্ধনের মূল বার্তা ভালোবাসা, যত্ন ও সুরক্ষা। পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচিত পোষ্যকে রাখি পরানোয় উৎসবের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব কোনোভাবেই কমে যায় না।

এক ভক্ত কৃতির ব্যক্তিগত পছন্দের পক্ষ নিয়ে লেখেন, এটি তার উৎসব এবং নিজের মতো করে উদ্‌যাপন করার স্বাধীনতা তাঁর রয়েছে। আরেকজন সবাইকে বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া না দেখানোর আহ্বান জানিয়ে লেখেন, ‘শান্ত হোন’।

তার মতে, কৃতির পোশাক বা পোষ্যকে রাখি পরানোর চেয়ে দেশের আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মানুষের ভাবা উচিত।

সব মিলিয়ে কৃতির এই বিজ্ঞাপন ঘিরে তৈরি হয়েছে পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক। আধুনিক সময়ে ঐতিহ্যবাহী উৎসবকে বিজ্ঞাপনে কীভাবে উপস্থাপন করা উচিত, সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে এনেছে এই বিতর্ক। একই সঙ্গে পোষ্য প্রাণীকে পরিবারের অংশ হিসেবে রক্ষা বন্ধনের মতো উৎসবে যুক্ত করা ঐতিহ্যের সম্প্রসারণ, নাকি মূল চেতনা থেকে সরে যাওয়া—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন চলছে সেই আলোচনা।