শনিবার যুক্তরাষ্ট্র কানাডার পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিল। তার দুদিনের মাথায় মঙ্গলবার কানাডা প্রতিশোধমূলক পাল্টা শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিল।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বনে যাওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। মূলত তার এই প্রস্তাবই দুই দেশের সম্পর্কে আস্থা ও বিশ্বাসে চিড় ধরায়।
কানাডার রাজনীতিবিদরা জাতীয়তাবাদী চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এর প্রতিক্রিয়া জানান। এরপর বিভিন্ন সময় ট্রাম্প কানাডার নানা পণ্যে শুল্ক আরোপ বা আরোপের হুমকি দিয়ে সম্পর্কটিকে বিষিয়ে তোলেন।
আলোচনা থেকে সরে আসার কারণ ব্যাখ্যা করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গত শুক্রবার বলেছেন, একটি খারাপ বাণিজ্য চুক্তির কারণেই তিনি আলোচনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
তিনি দাবি করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এমন কিছু নতুন শর্তের প্রস্তাব করেছে যা ছিল অলাভজনক এবং অন্যায় এবং এগুলো কানাডার সুবিধাকে ক্ষুণ্ন করত। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে একটি বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করার অভিযোগ এনে বলেন, ‘যখন আপনি আক্রান্ত হন, তখন আপনি যুদ্ধের মধ্যেই থাকেন। আমরা আক্রান্ত হয়েছি।’ কার্নি বলেন, ‘তারা যা প্রস্তাব করেছে আমরা তা গ্রহণ করতে পারি না, এবং তারা যা চেয়েছে তা আমরা দেব না।’
কার্নি আরো বলেন, ‘আলোচনার সময় আমরা জানতে পেরেছি যে, মার্কিনিরা আমাদের অটোমোবাইল, ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়ামসহ প্রধান শিল্পগুলোকে ধ্বংস করতে চায়। আমাদের না বলার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল এটিই। এটি একটি খারাপ চুক্তি ছিল।’
আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন গত শনিবার থেকে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কানাডীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একে দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং ‘ডলারের বদলে ডলার’ নীতির সংকল্প ব্যক্ত করেন। মঙ্গলবার কানাডা পাল্টা আঘাত হিসেবে ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৭০০টি মার্কিন পণ্যের ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। তবে কানাডার পণ্যে মার্কিন শুল্ক শনিবার থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
চলমান বাণিজ্য যুদ্ধটিকে আরো উস্কে দিয়ে ট্রাম্প সোমবার হুমকি দিয়েছেন যে, কানাডা লাইনে না আসলে আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কানাডার গাড়ি ও অটো পার্টস শিল্পের ওপরও ৫০ শতাংশ শুল্ক বসানো হবে। পাল্টাপাল্টি জবাবে কানাডীয় নেতারাও প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ ও জরুরি খনিজ সরবরাহ বন্ধ বা কমানোর মতো কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
নিজেদের অভ্যন্তরীণ শিল্পকে রক্ষা করার জাতীয়তাবাদী জেদ, মার্কিন মদের ওপর কানাডার নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত ছাড় আদায়ের অনমনীয় দাবি; সব মিলিয়ে উত্তর আমেরিকার এই দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর বাণিজ্যিক সম্পর্ককে এখন এক নজিরবিহীন যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক / ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম 





















