সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধুকে লেখা মহাত্মা গান্ধীর ৬৮৮টি বার্তা ১৬ কোটি রুপিতে বিক্রি

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর নিজের হাতে লেখা ৬৮৮টি দুর্লভ বার্তা নিলামে ১৬ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছে। ভারতীয় ঐতিহাসিক কোনো নথি নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রে এটিকে বিশ্বরেকর্ড বলে জানিয়েছে নিলাম প্রতিষ্ঠান স্যাফরনআর্ট।

ভারতে আয়োজিত এই নিলামে বার্তাগুলো বিক্রি হয়েছে ১২ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ডে। নিলামের আগে এগুলোর মূল্য ১৫ কোটি থেকে ২৫ কোটি রুপি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।

গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সহযোদ্ধা আনন্দ টি হিঙ্গোরানিকে উদ্দেশ্য করে এসব বার্তা লেখা হয়েছিল। স্যাফরনআর্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবরের মধ্যে গান্ধী এসব বার্তা লিখেছিলেন।

হিঙ্গোরানির স্ত্রী বিদ্যার মৃত্যুর পর তিনি গভীর শোক ও একাকিত্বে ভুগছিলেন। একই সময়ে কানে কম শোনার সমস্যার জন্য তিনি প্রাকৃতিক চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বন্ধুর কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াতে গান্ধী প্রতিদিন নিজের হাতে একটি করে ছোট উপদেশ বা ভাবনা লিখে পাঠাতেন।

পরবর্তীতে এসব লেখা সংকলন করে ‘আ থট ফর দ্য ডে’ নামে একটি বই প্রকাশ করা হয়। স্যাফরনআর্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মিনাল ভাজিরানি বলেন, গান্ধী প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও হিঙ্গোরানির জন্য সময় বের করে এসব ভাবনা লিখতেন। হিঙ্গোরানি সেগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতেন এবং পরবর্তীতে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করেন।

৬৮৮টি বার্তায় গান্ধীর দর্শন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। এর মধ্যে সত্য, অহিংসা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, লোভহীনতা, নির্ভীকতা, ধর্মীয় সমতা, প্রার্থনা, সেবা, শ্রম, কর্তব্য, নীরবতা, বিবেক, আত্মোপলব্ধি ও ঈশ্বরের সন্ধানের মতো বিষয় রয়েছে।

এ ছাড়া ১৯৩০ ও ১৯৩১ সালের দিকে লেখা নয়টি চিঠির একটি সংগ্রহও নিলামে তোলা হয়। এসব চিঠিতে আনন্দ ও বিদ্যার বিয়ে, পরিবারের আপত্তি, আর্থিক স্বাধীনতা এবং পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে গান্ধীর মতামত উঠে এসেছে।

হিঙ্গোরানি পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গান্ধীর এসব লেখা ও অন্যান্য সামগ্রী সংরক্ষণ করে আসছিল। স্যাফরনআর্ট ‘গান্ধী: ফ্রম দ্য কালেকশন অব আনন্দ টি হিঙ্গোরানি’ নামে মোট ৮৬টি সামগ্রীর নিলাম আয়োজন করে।

নিলামে গান্ধীর অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে ‘মেসেজ অন গড’ নামে তিনটি পাণ্ডুলিপি ও চিঠির সংগ্রহ ১ কোটি ৬৮ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়। তাঁর বহনযোগ্য বাক্সে রাখা একটি চরকা ও চরকায় সুতা কাটার আধ্যাত্মিক অনুশীলন নিয়ে লেখা দুটি চিঠির সংগ্রহ বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ রুপিতে।

এ ছাড়া লেখার টেবিলে বসা গান্ধীর একটি স্বাক্ষরিত ছবি ৭৮ লাখ রুপি এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর লেখা চিঠি ও পোস্টকার্ডের সংগ্রহ ৫৮ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছে।

তবে গান্ধীর ঐতিহাসিক নথি ও ব্যক্তিগত সামগ্রী নিলামে বিক্রি হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন ইতিহাসবিদদের অনেকে। দিল্লির ন্যাশনাল গান্ধী মিউজিয়ামের পরিচালক এ আনামালাই বলেন, গান্ধীর চিঠি ও ব্যক্তিগত সামগ্রী শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এগুলো ভারতের সাধারণ ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ।

তিনি এসব ঐতিহাসিক উপাদান নিলামে বিক্রি না করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

সূত্র: বিবিসি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের সেই বল ৪১ কোটি টাকায় বিক্রি

বন্ধুকে লেখা মহাত্মা গান্ধীর ৬৮৮টি বার্তা ১৬ কোটি রুপিতে বিক্রি

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৩:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধীর নিজের হাতে লেখা ৬৮৮টি দুর্লভ বার্তা নিলামে ১৬ কোটি ২০ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছে। ভারতীয় ঐতিহাসিক কোনো নথি নিলামে বিক্রির ক্ষেত্রে এটিকে বিশ্বরেকর্ড বলে জানিয়েছে নিলাম প্রতিষ্ঠান স্যাফরনআর্ট।

ভারতে আয়োজিত এই নিলামে বার্তাগুলো বিক্রি হয়েছে ১২ লাখ ব্রিটিশ পাউন্ডে। নিলামের আগে এগুলোর মূল্য ১৫ কোটি থেকে ২৫ কোটি রুপি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল।

গান্ধীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সহযোদ্ধা আনন্দ টি হিঙ্গোরানিকে উদ্দেশ্য করে এসব বার্তা লেখা হয়েছিল। স্যাফরনআর্টের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৪৪ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ১৯৪৬ সালের ১০ অক্টোবরের মধ্যে গান্ধী এসব বার্তা লিখেছিলেন।

হিঙ্গোরানির স্ত্রী বিদ্যার মৃত্যুর পর তিনি গভীর শোক ও একাকিত্বে ভুগছিলেন। একই সময়ে কানে কম শোনার সমস্যার জন্য তিনি প্রাকৃতিক চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। বন্ধুর কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়াতে গান্ধী প্রতিদিন নিজের হাতে একটি করে ছোট উপদেশ বা ভাবনা লিখে পাঠাতেন।

পরবর্তীতে এসব লেখা সংকলন করে ‘আ থট ফর দ্য ডে’ নামে একটি বই প্রকাশ করা হয়। স্যাফরনআর্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রেসিডেন্ট মিনাল ভাজিরানি বলেন, গান্ধী প্রতিদিনের ব্যস্ততার মধ্যেও হিঙ্গোরানির জন্য সময় বের করে এসব ভাবনা লিখতেন। হিঙ্গোরানি সেগুলো সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতেন এবং পরবর্তীতে প্রকাশের জন্য প্রস্তুত করেন।

৬৮৮টি বার্তায় গান্ধীর দর্শন ও আদর্শের বিভিন্ন দিক উঠে এসেছে। এর মধ্যে সত্য, অহিংসা, আত্মনিয়ন্ত্রণ, লোভহীনতা, নির্ভীকতা, ধর্মীয় সমতা, প্রার্থনা, সেবা, শ্রম, কর্তব্য, নীরবতা, বিবেক, আত্মোপলব্ধি ও ঈশ্বরের সন্ধানের মতো বিষয় রয়েছে।

এ ছাড়া ১৯৩০ ও ১৯৩১ সালের দিকে লেখা নয়টি চিঠির একটি সংগ্রহও নিলামে তোলা হয়। এসব চিঠিতে আনন্দ ও বিদ্যার বিয়ে, পরিবারের আপত্তি, আর্থিক স্বাধীনতা এবং পারিবারিক দায়িত্ব নিয়ে গান্ধীর মতামত উঠে এসেছে।

হিঙ্গোরানি পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে গান্ধীর এসব লেখা ও অন্যান্য সামগ্রী সংরক্ষণ করে আসছিল। স্যাফরনআর্ট ‘গান্ধী: ফ্রম দ্য কালেকশন অব আনন্দ টি হিঙ্গোরানি’ নামে মোট ৮৬টি সামগ্রীর নিলাম আয়োজন করে।

নিলামে গান্ধীর অন্যান্য সামগ্রীর মধ্যে ‘মেসেজ অন গড’ নামে তিনটি পাণ্ডুলিপি ও চিঠির সংগ্রহ ১ কোটি ৬৮ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়। তাঁর বহনযোগ্য বাক্সে রাখা একটি চরকা ও চরকায় সুতা কাটার আধ্যাত্মিক অনুশীলন নিয়ে লেখা দুটি চিঠির সংগ্রহ বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ২ লাখ রুপিতে।

এ ছাড়া লেখার টেবিলে বসা গান্ধীর একটি স্বাক্ষরিত ছবি ৭৮ লাখ রুপি এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে তাঁর লেখা চিঠি ও পোস্টকার্ডের সংগ্রহ ৫৮ লাখ রুপিতে বিক্রি হয়েছে।

তবে গান্ধীর ঐতিহাসিক নথি ও ব্যক্তিগত সামগ্রী নিলামে বিক্রি হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়েছেন ইতিহাসবিদদের অনেকে। দিল্লির ন্যাশনাল গান্ধী মিউজিয়ামের পরিচালক এ আনামালাই বলেন, গান্ধীর চিঠি ও ব্যক্তিগত সামগ্রী শুধু ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়; এগুলো ভারতের সাধারণ ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ।

তিনি এসব ঐতিহাসিক উপাদান নিলামে বিক্রি না করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জাদুঘরে সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

সূত্র: বিবিসি