চীন ও নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত লেন্ডে নদীর তীরে কাদা ও বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর এই ভয়াবহ দুর্যোগের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই সেই স্রোত নদীপথে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভোতে কোসি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী জনপদগুলোতে আছড়ে পড়ে।
দুর্যোগের ভয়াবহতা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিজ ফেডারেশনের (আইএফআরসি) নেপাল প্রধান ডেভিড ফিশার বলেন, পুরো গ্রাম এবং বাজার এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
আকাশ থেকে ধারণ করা উদ্ধার অভিযানের ফুটেজেও ধ্বংসযজ্ঞের ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। কোথাও শুধু কাদামাখা বাড়ির কঙ্কাল দেখা যাচ্ছে, আবার কোথাও বহুতল ভবনের নিচতলা পুরোপুরি পানিতে ও কাদায় তলিয়ে গেছে।
নেপালি সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারে করে দুর্গম এলাকা থেকে জীবিতদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে। নদীর কাছাকাছি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত অঞ্চলের জিরং এলাকাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সেখানে তিনজন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সীমান্ত এলাকা থেকে পাওয়া নজরদারি ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েক তলা উঁচু কাদা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত একটি ভবনকে মুহূর্তের মধ্যে গ্রাস করছে। নিচে থাকা মানুষজন প্রাণ বাঁচাতে ছুটে পালাচ্ছেন। প্রবল স্রোতে বাস ও গাড়িও খেলনার মতো ভেসে যেতে দেখা গেছে।
দুর্যোগের ভয়াবহতা কাটতে না কাটতেই নতুন শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী নদীর উজানে এখনো ধ্বংসাবশেষের প্রতিবন্ধকতা আটকে থাকায় সেখান থেকে ফের আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
নেপালের ভয়াবহ বন্যার প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের কিছু এলাকাতেও পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। উত্তর প্রদেশ ও বিহারের কয়েকটি জেলায় ইতোমধ্যে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মৌসুমি বৃষ্টিতে প্রায় প্রতিবছরই বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে।
হিমালয় অঞ্চলের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশ, ভারী বৃষ্টি, হিমবাহ ও ভূমিধসের ঝুঁকির সঙ্গে আকস্মিক বন্যার এই ভয়াবহতা যুক্ত হয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি করছে। এনডিটিভি

রিপোর্টারের নাম 
























