শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষ, সাংবাদিককে মারধর ও ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র–শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (টিএসসিসি) চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া–পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এক সাংবাদিককে মারধর এবং তার মুঠোফোন থেকে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার ২৭ (আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক আতিকুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য।

অভিযোগপত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে টিএসসিসিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই সময় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একদল শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা নিয়ে রবীন্দ্র ভবনের দিকে যেতে দেখে আতিকুর রহমান ভিডিও ধারণ করছিলেন। তখন কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে ধরেন। তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও চাপ দিয়ে তার ভিডিও মুছে ফেলা হয়। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন এবং তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে অন্যান্য ভিডিও ও তথ্য মুছে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আতিকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব পালনকালে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হওয়ায় আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তের স্বার্থে প্রক্টোরিয়াল বডি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটার যানজট

রাবিতে দুই বিভাগের সংঘর্ষ, সাংবাদিককে মারধর ও ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ

প্রকাশিত সময় : ১০:০৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র–শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে (টিএসসিসি) চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া–পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় এক সাংবাদিককে মারধর এবং তার মুঠোফোন থেকে ভিডিও মুছে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার ২৭ (আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক আতিকুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যনির্বাহী সদস্য।

অভিযোগপত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে টিএসসিসিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ওই সময় ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের একদল শিক্ষার্থীকে লাঠিসোঁটা নিয়ে রবীন্দ্র ভবনের দিকে যেতে দেখে আতিকুর রহমান ভিডিও ধারণ করছিলেন। তখন কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে ঘিরে ধরেন। তিনি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও চাপ দিয়ে তার ভিডিও মুছে ফেলা হয়। পরে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করেন এবং তার মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে অন্যান্য ভিডিও ও তথ্য মুছে দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আতিকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব পালনকালে লাঞ্ছিত ও মারধরের শিকার হওয়ায় আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, অভিযোগটি আমরা পেয়েছি। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তদন্তের স্বার্থে প্রক্টোরিয়াল বডি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।