শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তাজমিন হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালক সুমন গ্রেপ্তার

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার সন্দেহভাজন সিএনজিচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তবে তাজমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ সুপার জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় জেলা পুলিশের বিশেষ টিম। হত্যাকাণ্ডে সুমনের সাথে আর কেউ জড়িত ছিল কি না এবং ঠিক কী উদ্দেশ্যে কিশোরীটিকে সেখানে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা জানতে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মামলার অন্যতম প্রধান আলামত-নিহতের ব্যবহৃত নিখোঁজ মোবাইল ফোনটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুমনের বাড়ি কুমিল্লার জয়নগর এলাকায়। তিনি বেশিরভাগ সময় রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় অটোরিকশা চালাতেন। তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। কিছুদিন আগে ঘর বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। অটোরিকশাটি জব্দ করে এর সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আবদুল আলীম ওষুধ কোম্পানির রেনাটার কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে সে কক্সবাজারে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নেমেছিল সে।

তাজমিন হত্যার ঘটনায় তার বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

তাজমিন হত্যা: চট্টগ্রাম থেকে সিএনজিচালক সুমন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত সময় : ১১:০৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলার সন্দেহভাজন সিএনজিচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তবে তাজমিনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

পুলিশ সুপার জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্ত সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় জেলা পুলিশের বিশেষ টিম। হত্যাকাণ্ডে সুমনের সাথে আর কেউ জড়িত ছিল কি না এবং ঠিক কী উদ্দেশ্যে কিশোরীটিকে সেখানে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে, তা জানতে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি মামলার অন্যতম প্রধান আলামত-নিহতের ব্যবহৃত নিখোঁজ মোবাইল ফোনটি উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সুমনের বাড়ি কুমিল্লার জয়নগর এলাকায়। তিনি বেশিরভাগ সময় রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার ও আশপাশের এলাকায় অটোরিকশা চালাতেন। তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। কিছুদিন আগে ঘর বিক্রি করে সেখান থেকে চলে যান বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের কাছে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া যায়। অটোরিকশাটি জব্দ করে এর সূত্র ধরে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামের আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আবদুল আলীম ওষুধ কোম্পানির রেনাটার কুমিল্লা অঞ্চলে চাকরি করেন। পরিবারের সদস্যরা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চার দিন আগে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল তাজমিন। পরে সে কক্সবাজারে গিয়েছিল বলে জানা গেছে। ফেরার পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নেমেছিল সে।

তাজমিন হত্যার ঘটনায় তার বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।