মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবার সঙ্গে অভিমানের গুঞ্জন, মুখ খুললেন বিজয়পুত্র

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার তারকা অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়। ব্যক্তিগত জীবনে সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গমের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন। পরকীয়া প্রেমের অভিযোগে ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজয়ের স্ত্রী।

কয়েক মাস আগে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজয়। নির্বাচন থেকে শপথ নেওয়া পর্যন্ত আড়ালে ছিলেন বিজয়ের স্ত্রী-সন্তানেরা। ফলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়—বিজয়ের সঙ্গে স্ত্রীর যেমন দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তেমনই সন্তানদের সঙ্গে তার সম্পর্কও ভালো নেই। এ নিয়ে সরগরম ছিল রাজনৈতিক ও শোবিজ অঙ্গন।

স্ত্রী সংগীতার সঙ্গে বিজয়

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাবার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিজয়ের পুত্র জেসন সঞ্জয়। বিহাইন্ডউডস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কথা বলেন তিনি। বাবা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় গর্বিত জেসন সঞ্জয় বলেন, “আমার বাবা মুখ্যমন্ত্রী হওয়া একটি ঐতিহাসিক বিপ্লব। এটি আমার, আমার বোন এবং আমাদের পুরো পরিবারের জন্য আরো বড় দায়িত্ব। এই উত্তরাধিকার আমাদের বহন করতে হবে এবং রক্ষা করতে হবে।” 

চলচ্চিত্রে পা রাখার আগে পুত্র সঞ্জয়কে পরামর্শ দিয়েছিলেন বিজয়। তা উল্লেখ করে জেসন সঞ্জয় বলেন, “আমার বাবা আমাকে বলেছিলেন, ‘নিজের পরিচয় ও নিজের নাম নিজেকেই গড়ে তুলতে হবে। কখনো সাহায্যের দরকার হলে তার কাছে যেতে বলেছিলেন।’ কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন—আমি যেন নিজের পথ নিজেই তৈরি করি।” 

মা সংগীতা সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসতে হাসতে জেসন সঞ্জয় বলেন, “আমার মা একজন গোয়েন্দার মতো। আমি যখনই কাউকে না জানিয়ে কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করি বা গোপনে কিছু করতে চাই, তখনই ধরা পড়ে যাই।”  

 

বাবা-মায়ের সঙ্গে ছোট্ট সঞ্জয়

শৈশবের একটি ঘটনা স্মরণ করে জেসন সঞ্জয় বলেন, “এক রাতে কাউকে না জানিয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। পরের দিন সকালে বাড়ি ফিরি। আমার ফোন বন্ধ ছিল। নিখোঁজ ভেবে আমার পরিবার থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বাড়ি ফিরে সত্যিই বড় বিপদে পড়েছিলাম।” 

বাবার মতো রুপালি জগতে পা রাখতে যাচ্ছেন জেসন সঞ্জয়। তবে অভিনেতা নয়, ‘সিগমা’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে তার। মজার বিষয় হলো—সিনেমাটির একটি গানে জেসন সঞ্জয় নিজেও পারফর্ম করেছেন। বিজয়পুত্রের প্রথম চলচ্চিত্র হওয়ায় এটি ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বিজয়-সংগীতার বিয়ের ছবি

 

১৯৯৬ সালে চেন্নাইয়ে শুটিং করার সময়ে সংগীতার সঙ্গে পরিচয় হয় বিজয়ের। এই নায়কের শুটিংয়ের খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন তার অন্ধ ভক্ত সংগীতা। শুধু বিজয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্যই যুক্তরাজ্য থেকে ভারতে এসেছিলেন সংগীতা; এমন কর্মকাণ্ড দেখে সংগীতায় মুগ্ধ হন বিজয়। পরবর্তীতে তাদের সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট সাতপাকে বাঁধা পড়েন বিজয়-সংগীতা। ২০০৫ সালে তাদের সংসার আলো করে জন্ম নেয় পুত্র জেসন সঞ্জয়। এ দম্পতির দিব্য সাশা নামে একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বাবার সঙ্গে অভিমানের গুঞ্জন, মুখ খুললেন বিজয়পুত্র

প্রকাশিত সময় : ০৯:০০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের দক্ষিণী সিনেমার তারকা অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ থালাপতি বিজয়। ব্যক্তিগত জীবনে সংগীতা স্বর্ণালিঙ্গমের সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন। পরকীয়া প্রেমের অভিযোগে ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজয়ের স্ত্রী।

কয়েক মাস আগে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিজয়। নির্বাচন থেকে শপথ নেওয়া পর্যন্ত আড়ালে ছিলেন বিজয়ের স্ত্রী-সন্তানেরা। ফলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়—বিজয়ের সঙ্গে স্ত্রীর যেমন দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তেমনই সন্তানদের সঙ্গে তার সম্পর্কও ভালো নেই। এ নিয়ে সরগরম ছিল রাজনৈতিক ও শোবিজ অঙ্গন।

স্ত্রী সংগীতার সঙ্গে বিজয়

সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাবার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিজয়ের পুত্র জেসন সঞ্জয়। বিহাইন্ডউডস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কথা বলেন তিনি। বাবা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় গর্বিত জেসন সঞ্জয় বলেন, “আমার বাবা মুখ্যমন্ত্রী হওয়া একটি ঐতিহাসিক বিপ্লব। এটি আমার, আমার বোন এবং আমাদের পুরো পরিবারের জন্য আরো বড় দায়িত্ব। এই উত্তরাধিকার আমাদের বহন করতে হবে এবং রক্ষা করতে হবে।” 

চলচ্চিত্রে পা রাখার আগে পুত্র সঞ্জয়কে পরামর্শ দিয়েছিলেন বিজয়। তা উল্লেখ করে জেসন সঞ্জয় বলেন, “আমার বাবা আমাকে বলেছিলেন, ‘নিজের পরিচয় ও নিজের নাম নিজেকেই গড়ে তুলতে হবে। কখনো সাহায্যের দরকার হলে তার কাছে যেতে বলেছিলেন।’ কিন্তু তিনি চেয়েছিলেন—আমি যেন নিজের পথ নিজেই তৈরি করি।” 

মা সংগীতা সম্পর্কে জানতে চাইলে হাসতে হাসতে জেসন সঞ্জয় বলেন, “আমার মা একজন গোয়েন্দার মতো। আমি যখনই কাউকে না জানিয়ে কোথাও যাওয়ার চেষ্টা করি বা গোপনে কিছু করতে চাই, তখনই ধরা পড়ে যাই।”  

 

বাবা-মায়ের সঙ্গে ছোট্ট সঞ্জয়

শৈশবের একটি ঘটনা স্মরণ করে জেসন সঞ্জয় বলেন, “এক রাতে কাউকে না জানিয়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলাম। পরের দিন সকালে বাড়ি ফিরি। আমার ফোন বন্ধ ছিল। নিখোঁজ ভেবে আমার পরিবার থানায় অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বাড়ি ফিরে সত্যিই বড় বিপদে পড়েছিলাম।” 

বাবার মতো রুপালি জগতে পা রাখতে যাচ্ছেন জেসন সঞ্জয়। তবে অভিনেতা নয়, ‘সিগমা’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে তার। মজার বিষয় হলো—সিনেমাটির একটি গানে জেসন সঞ্জয় নিজেও পারফর্ম করেছেন। বিজয়পুত্রের প্রথম চলচ্চিত্র হওয়ায় এটি ঘিরে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

বিজয়-সংগীতার বিয়ের ছবি

 

১৯৯৬ সালে চেন্নাইয়ে শুটিং করার সময়ে সংগীতার সঙ্গে পরিচয় হয় বিজয়ের। এই নায়কের শুটিংয়ের খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন তার অন্ধ ভক্ত সংগীতা। শুধু বিজয়ের সঙ্গে দেখা করার জন্যই যুক্তরাজ্য থেকে ভারতে এসেছিলেন সংগীতা; এমন কর্মকাণ্ড দেখে সংগীতায় মুগ্ধ হন বিজয়। পরবর্তীতে তাদের সম্পর্ক প্রেমে রূপ নেয়। ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট সাতপাকে বাঁধা পড়েন বিজয়-সংগীতা। ২০০৫ সালে তাদের সংসার আলো করে জন্ম নেয় পুত্র জেসন সঞ্জয়। এ দম্পতির দিব্য সাশা নামে একটি কন্যা সন্তানও রয়েছে।