শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেলেন ইরানের সেই ২ নারী ফুটবলার

খেলাধুলায় একটি নিয়মিত চিত্র ম্যাচ শুরু আগে দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো। আর তাতে কণ্ঠ মেলান খেলোয়াড়সহ ভক্ত-সমর্থকরা।

গত মার্চে নারী এশিয়ান কাপেও ব্যতিক্রম কিছু হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া টুর্নামেন্টে প্রতিটি দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। খেলোয়াড়রাও তাতে কণ্ঠ মেলান। তবে ইরানের অনেকেই জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

জাতীয় সংগীত না গাওয়া সেই খেলোয়াড়দের মধ্যে দুজন এবার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছেন।
সেই দুই ইরানি ফুটবলার হচ্ছেন— ফাতেমে পসানদিদেহ ও আতেফে রামেজানিজাদে। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়ে নিজেদের গর্বিত মনে করছেন তারা। গত বুধবার ব্রিসবেনে আয়োজিত বিশেষ নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পান তারা।

সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কও।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হলে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেন ইরানের অনেক নারী ফুটবলার। তাদের মধ্যে ছিলেন পসানদিদেহ-রামেজানিজাদেও। সেখান থেকেই পরে ইরানের হয়ে নারী এশিয়ান কাপে অংশ নেন। তবে দেশের হয়ে খেললেও জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানান তারা।

জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় শাস্তি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেন তারা।
পরে অনেকে দেশে ফিরলেও পসানদিদেহ-রামেজানিজাদে অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যান। যে উদ্দেশ্যে থেকে গিয়েছিলেন তাতে সফল হয়েছে দুজনে। নাগরিকত্ব পেয়ে ৩৪ বছর বয়সী রামেজানিজাদে বলেছেন, ‘আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ ও অবিস্মরণীয় একদিন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’

বিপরীতে নাগরিকত্ব পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না পসানদিদেহও। ২২ বছর বয়সী পসানদিদেহ বলেছেন, ‘নতুন শুরু এবং আমার ঘর বলে ডাকার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। কঠিন পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গিয়েছি আমরা। এমন মুহূর্তটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ইসলামের প্রথম জুমার খুতবায় যে বার্তা দেন মহানবী (সা.)

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেলেন ইরানের সেই ২ নারী ফুটবলার

প্রকাশিত সময় : ১১:১৭:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

খেলাধুলায় একটি নিয়মিত চিত্র ম্যাচ শুরু আগে দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো। আর তাতে কণ্ঠ মেলান খেলোয়াড়সহ ভক্ত-সমর্থকরা।

গত মার্চে নারী এশিয়ান কাপেও ব্যতিক্রম কিছু হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া টুর্নামেন্টে প্রতিটি দেশের জাতীয় সংগীত বাজানো হয়। খেলোয়াড়রাও তাতে কণ্ঠ মেলান। তবে ইরানের অনেকেই জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন।

জাতীয় সংগীত না গাওয়া সেই খেলোয়াড়দের মধ্যে দুজন এবার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছেন।
সেই দুই ইরানি ফুটবলার হচ্ছেন— ফাতেমে পসানদিদেহ ও আতেফে রামেজানিজাদে। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়ে নিজেদের গর্বিত মনে করছেন তারা। গত বুধবার ব্রিসবেনে আয়োজিত বিশেষ নাগরিকত্ব প্রদান অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পান তারা।

সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কও।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হলে অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নেন ইরানের অনেক নারী ফুটবলার। তাদের মধ্যে ছিলেন পসানদিদেহ-রামেজানিজাদেও। সেখান থেকেই পরে ইরানের হয়ে নারী এশিয়ান কাপে অংশ নেন। তবে দেশের হয়ে খেললেও জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানান তারা।

জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় শাস্তি হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় নেন তারা।
পরে অনেকে দেশে ফিরলেও পসানদিদেহ-রামেজানিজাদে অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যান। যে উদ্দেশ্যে থেকে গিয়েছিলেন তাতে সফল হয়েছে দুজনে। নাগরিকত্ব পেয়ে ৩৪ বছর বয়সী রামেজানিজাদে বলেছেন, ‘আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ ও অবিস্মরণীয় একদিন। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক হতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’

বিপরীতে নাগরিকত্ব পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছেন না পসানদিদেহও। ২২ বছর বয়সী পসানদিদেহ বলেছেন, ‘নতুন শুরু এবং আমার ঘর বলে ডাকার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত। কঠিন পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে গিয়েছি আমরা। এমন মুহূর্তটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’