শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ৩০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতের পর ছাত্রদল সভাপতির আবেগঘন বার্তা

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাকিব লেখেন, ‘অনেক বেশি সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।’

তিনি দীর্ঘ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য তারেক রহমান এবং প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাকিব তার পোস্টে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

ঢাকার পাঁচ কলেজ ও চার মহানগরের নেতাকর্মীদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের শ্রম ও ত্যাগের কারণেই রাজপথের কর্মসূচিগুলো সফল হয়েছে এবং নানা ষড়যন্ত্রও তারা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।

নিজেদের নেতৃত্বের সময় ছাত্রদলের কোনো কেন্দ্রীয় বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতার নামে অনাকাঙ্ক্ষিত খবরের শিরোনাম হয়নি বলেও দাবি করেন রাকিব। তিনি বলেন, আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও নেতাকর্মীরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, সব ক্যাম্পাসে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন এবং ছাত্রদলের কারণে যেন কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার না হন, সে বিষয়ে সচেতন ছিলেন। দলের বাইরের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানেও নিজের অবস্থান থেকে সহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন রাকিব। তার ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে কার্যকর ভূমিকা পালন ছিল রাকিব-নাসির কমিটির অন্যতম বড় অর্জন।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শত শত ‘মব’ মোকাবিলা করতে হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক বুলিং উপেক্ষা করেও নেতৃত্ব দিতে হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে রাকিব লেখেন, একটা নতুন জীবন শুরু করতে চাই। নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়তে চাই।

দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সেজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি বলেন, ‘ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে কেউ নয়।’

পোস্টের শেষাংশে তিনি ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা জানান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

মার্কিন বিমানবাহী রণতরিতে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ, নিহত ৭

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতের পর ছাত্রদল সভাপতির আবেগঘন বার্তা

প্রকাশিত সময় : ১০:০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর দল ও সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার জন্য বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, ছাত্রদলের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের শীর্ষ পাঁচ নেতা বিদায়ী সাক্ষাৎ করেন। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে রাকিব লেখেন, ‘অনেক বেশি সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।’

তিনি দীর্ঘ সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য তারেক রহমান এবং প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাকিব তার পোস্টে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাকর্মীদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন।

ঢাকার পাঁচ কলেজ ও চার মহানগরের নেতাকর্মীদের বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের শ্রম ও ত্যাগের কারণেই রাজপথের কর্মসূচিগুলো সফল হয়েছে এবং নানা ষড়যন্ত্রও তারা দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন।

নিজেদের নেতৃত্বের সময় ছাত্রদলের কোনো কেন্দ্রীয় বা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের নেতার নামে অনাকাঙ্ক্ষিত খবরের শিরোনাম হয়নি বলেও দাবি করেন রাকিব। তিনি বলেন, আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেও নেতাকর্মীরা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি আরও বলেন, সব ক্যাম্পাসে ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন এবং ছাত্রদলের কারণে যেন কোনো সাধারণ শিক্ষার্থী অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির শিকার না হন, সে বিষয়ে সচেতন ছিলেন। দলের বাইরের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানেও নিজের অবস্থান থেকে সহযোগিতা করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকার কথাও স্মরণ করেন রাকিব। তার ভাষ্য, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্মসূচি প্রণয়ন এবং রাজপথে কার্যকর ভূমিকা পালন ছিল রাকিব-নাসির কমিটির অন্যতম বড় অর্জন।

তিনি জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরবর্তী পরিস্থিতিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শত শত ‘মব’ মোকাবিলা করতে হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধারাবাহিক বুলিং উপেক্ষা করেও নেতৃত্ব দিতে হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে রাকিব লেখেন, একটা নতুন জীবন শুরু করতে চাই। নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়তে চাই।

দায়িত্ব পালনের সময়ে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সেজন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি বলেন, ‘ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে কেউ নয়।’

পোস্টের শেষাংশে তিনি ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে প্রত্যাশা জানান।