বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্রুত ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে হাঁটা নাকি স্কিপিং, কোনটি বেশি কার্যকর?

ওজন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিভিন্ন ব্যায়াম করেন অনেকেই। আর ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দ্রুত ক্যালরি ব্যয়ের বিষয়টি আসে।

আর এ কথা ভেবে অনেকেই স্কিপিং করেন। আবার অনেকে ভাবেন নিয়মিত হাঁটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিটনেস, শারীরিক সক্ষমতা ও নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাসের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। খবর এনডিটিভি
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু কোন ব্যায়াম করছেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়।

বরং শরীর যত ক্যালোরি খরচ করছে, তার তুলনায় খাবারের মাধ্যমে কম ক্যালোরি গ্রহণ করা অর্থাৎ ক্যালরি ঘাটতি তৈরি করাই ওজন কমানোর মূল বিষয়। এই জায়গায় হাঁটা ও স্কিপিং দুটিই কার্যকর হতে পারে। তবে দুটির ধরন ও শরীরে প্রভাব একেবারেই আলাদা।
হাঁটা

শরীরচর্চা শুরু করার জন্য হাঁটা সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি।

বিশেষ করে দ্রুত হাঁটা বা ব্রিস্ক ওয়াক করলে হার্টবিট বাড়ে এবং শরীর বেশি শক্তি ব্যবহার করে। হাঁটার বড় সুবিধা হলো, এটি তুলনামূলকভাবে কম-প্রভাবের ব্যায়াম। ফলে দৌড়ানো বা লাফানোর মতো ব্যায়ামের তুলনায় হাঁটার সময় জয়েন্টের ওপর চাপ কম পড়ে।
নিয়মিত হাঁটা কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, পেশির কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে কত ক্যালোরি খরচ হবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়।

শরীরের ওজন, হাঁটার গতি, রাস্তার ঢাল এবং কতক্ষণ হাঁটছেন সবকিছুর ওপর ক্যালোরি খরচ নির্ভর করে। ধীরে হাঁটার তুলনায় দ্রুত হাঁটলে বেশি ক্যালোরি খরচ হবে। আবার হাঁটার পথে কিছুটা উঁচু-নিচু জায়গা বা নির্দিষ্ট সময় দ্রুত হাঁটা যোগ করলেও ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো যায়।
স্কিপিং

স্কিপিং বা দড়ি লাফানো তুলনামূলকভাবে বেশি তীব্রতার কার্ডিও ব্যায়াম। কয়েক মিনিট স্কিপিং করলেই হার্টবিট দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এই ব্যায়ামে শুধু পা নয়, হাত ও শরীরের মাঝের অংশের পেশিও সক্রিয় থাকে। ফলে এটি সমন্বয়, ভারসাম্য, দ্রুততা ও কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস উন্নত করতেও সাহায্য করতে পারে।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময় কম লাগা। একই সময়ের হাঁটার তুলনায় স্কিপিং সাধারণত প্রতি মিনিটে বেশি ক্যালোরি খরচ করে। তবে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাও রয়েছে বারবার লাফানোর কারণে গোড়ালি, হাঁটু ও অন্যান্য জয়েন্টের ওপর বেশি চাপ পড়ে। তাই যারা একেবারেই নতুন, তাদের শুরুতেই দীর্ঘ সময় স্কিপিং করা উচিত নয়।

হাঁটা বনাম স্কিপিং : কোনটিতে বেশি ক্যালোরি পোড়ে

সাধারণভাবে স্কিপিং প্রতি মিনিটে হাঁটার চেয়ে বেশি ক্যালোরি পোড়ায়, কারণ এটি বেশি তীব্রতার ব্যায়াম। কিন্তু এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ধরুন, কেউ মাত্র ১০ মিনিট স্কিপিং করতে পারেন। অন্যদিকে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে ৪৫ মিনিট হাঁটতে পারেন। তাহলে দীর্ঘ সময় হাঁটার ফলে মোট ক্যালোরি খরচ স্কিপিংয়ের কাছাকাছি বা কখনও তার চেয়েও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ শুধু প্রতি মিনিটে কত ক্যালোরি নয়, বরং আপনি কতক্ষণ এবং কত নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

নতুনদের জন্য কোনটি ভালো

যারা ব্যায়াম শুরু করছেন, শারীরিক ফিটনেস কম অথবা কম-প্রভাবের ব্যায়াম পছন্দ করেন, তাদের জন্য হাঁটা সাধারণত ভালো শুরু। প্রথমে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা শুরু করে ধীরে ধীরে গতি ও সময় বাড়ানো যায়। পরে পাহাড়ি বা ঢালু পথে হাঁটা কিংবা হাঁটার মধ্যে কিছু সময় দ্রুত হাঁটা যোগ করা যেতে পারে। ফিটনেস ও শরীরের সমন্বয় ক্ষমতা বাড়লে স্কিপিং যোগ করা যেতে পারে।

শুরুতেই টানা ২০-৩০ মিনিট স্কিপিং করার চেষ্টা না করে কয়েক সেকেন্ড স্কিপিং করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়া যেতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো ভালো। যাদের হাঁটু, গোড়ালি বা অন্য কোনো জয়েন্টে সমস্যা বা ব্যথা রয়েছে, তাদের উচ্চ-প্রভাবের ব্যায়াম হিসেবে স্কিপিং শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

দ্রুত ওজন নিয়ন্ত্রণে আনতে হাঁটা নাকি স্কিপিং, কোনটি বেশি কার্যকর?

প্রকাশিত সময় : ১০:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

ওজন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বিভিন্ন ব্যায়াম করেন অনেকেই। আর ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে দ্রুত ক্যালরি ব্যয়ের বিষয়টি আসে।

আর এ কথা ভেবে অনেকেই স্কিপিং করেন। আবার অনেকে ভাবেন নিয়মিত হাঁটা গুরুত্বপূর্ণ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিটনেস, শারীরিক সক্ষমতা ও নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাসের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। খবর এনডিটিভি
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু কোন ব্যায়াম করছেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়।

বরং শরীর যত ক্যালোরি খরচ করছে, তার তুলনায় খাবারের মাধ্যমে কম ক্যালোরি গ্রহণ করা অর্থাৎ ক্যালরি ঘাটতি তৈরি করাই ওজন কমানোর মূল বিষয়। এই জায়গায় হাঁটা ও স্কিপিং দুটিই কার্যকর হতে পারে। তবে দুটির ধরন ও শরীরে প্রভাব একেবারেই আলাদা।
হাঁটা

শরীরচর্চা শুরু করার জন্য হাঁটা সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি।

বিশেষ করে দ্রুত হাঁটা বা ব্রিস্ক ওয়াক করলে হার্টবিট বাড়ে এবং শরীর বেশি শক্তি ব্যবহার করে। হাঁটার বড় সুবিধা হলো, এটি তুলনামূলকভাবে কম-প্রভাবের ব্যায়াম। ফলে দৌড়ানো বা লাফানোর মতো ব্যায়ামের তুলনায় হাঁটার সময় জয়েন্টের ওপর চাপ কম পড়ে।
নিয়মিত হাঁটা কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, পেশির কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে কত ক্যালোরি খরচ হবে, তা সবার ক্ষেত্রে এক নয়।

শরীরের ওজন, হাঁটার গতি, রাস্তার ঢাল এবং কতক্ষণ হাঁটছেন সবকিছুর ওপর ক্যালোরি খরচ নির্ভর করে। ধীরে হাঁটার তুলনায় দ্রুত হাঁটলে বেশি ক্যালোরি খরচ হবে। আবার হাঁটার পথে কিছুটা উঁচু-নিচু জায়গা বা নির্দিষ্ট সময় দ্রুত হাঁটা যোগ করলেও ব্যায়ামের মাত্রা বাড়ানো যায়।
স্কিপিং

স্কিপিং বা দড়ি লাফানো তুলনামূলকভাবে বেশি তীব্রতার কার্ডিও ব্যায়াম। কয়েক মিনিট স্কিপিং করলেই হার্টবিট দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এই ব্যায়ামে শুধু পা নয়, হাত ও শরীরের মাঝের অংশের পেশিও সক্রিয় থাকে। ফলে এটি সমন্বয়, ভারসাম্য, দ্রুততা ও কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস উন্নত করতেও সাহায্য করতে পারে।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো সময় কম লাগা। একই সময়ের হাঁটার তুলনায় স্কিপিং সাধারণত প্রতি মিনিটে বেশি ক্যালোরি খরচ করে। তবে এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতাও রয়েছে বারবার লাফানোর কারণে গোড়ালি, হাঁটু ও অন্যান্য জয়েন্টের ওপর বেশি চাপ পড়ে। তাই যারা একেবারেই নতুন, তাদের শুরুতেই দীর্ঘ সময় স্কিপিং করা উচিত নয়।

হাঁটা বনাম স্কিপিং : কোনটিতে বেশি ক্যালোরি পোড়ে

সাধারণভাবে স্কিপিং প্রতি মিনিটে হাঁটার চেয়ে বেশি ক্যালোরি পোড়ায়, কারণ এটি বেশি তীব্রতার ব্যায়াম। কিন্তু এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ধরুন, কেউ মাত্র ১০ মিনিট স্কিপিং করতে পারেন। অন্যদিকে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যে ৪৫ মিনিট হাঁটতে পারেন। তাহলে দীর্ঘ সময় হাঁটার ফলে মোট ক্যালোরি খরচ স্কিপিংয়ের কাছাকাছি বা কখনও তার চেয়েও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ শুধু প্রতি মিনিটে কত ক্যালোরি নয়, বরং আপনি কতক্ষণ এবং কত নিয়মিত ব্যায়াম করতে পারছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

নতুনদের জন্য কোনটি ভালো

যারা ব্যায়াম শুরু করছেন, শারীরিক ফিটনেস কম অথবা কম-প্রভাবের ব্যায়াম পছন্দ করেন, তাদের জন্য হাঁটা সাধারণত ভালো শুরু। প্রথমে স্বাভাবিক গতিতে হাঁটা শুরু করে ধীরে ধীরে গতি ও সময় বাড়ানো যায়। পরে পাহাড়ি বা ঢালু পথে হাঁটা কিংবা হাঁটার মধ্যে কিছু সময় দ্রুত হাঁটা যোগ করা যেতে পারে। ফিটনেস ও শরীরের সমন্বয় ক্ষমতা বাড়লে স্কিপিং যোগ করা যেতে পারে।

শুরুতেই টানা ২০-৩০ মিনিট স্কিপিং করার চেষ্টা না করে কয়েক সেকেন্ড স্কিপিং করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেয়া যেতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে সময় বাড়ানো ভালো। যাদের হাঁটু, গোড়ালি বা অন্য কোনো জয়েন্টে সমস্যা বা ব্যথা রয়েছে, তাদের উচ্চ-প্রভাবের ব্যায়াম হিসেবে স্কিপিং শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।