বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরিয়ে ফেলা হলো কৃতির সেই বিতর্কিত বিজ্ঞাপন

সাদা ব্রা-লেটে লাস্যময়ী অবতারে রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে ধরা দিয়ে বিতর্কের মুখে বলিউড তারকা শ্যানন। ভারতীয় সংস্কৃতিকে কলুষিত করার অভিযোগে নিন্দার ঝড় সোশ্যাল মিডিয়াতেও। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয়েছে যে ,বিতর্ক থামাতে বড়সড় পদক্ষেপ করতে বাধ্য হলো গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থা। অভিযোগ, কৃতির অত্যাধুনিক পোশাক থেকে উঁকি দেওয়া উন্মুক্ত বক্ষবিভাজিকা ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাখিবন্ধন উৎসবকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেছে! এমন বিতর্কযজ্ঞে কৃতিকে এক হাত নেন ‘সংস্কারি’ সাংসদ ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। এরপরই নারী স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে কৃতী শ্যাননের ‘ঢাল’ হয়ে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। এককথায় ‘স্বল্পাবাসী’ নায়িকার রাখিবন্ধনের ভিডিও নিয়ে রাজনৈতিকমহলেও জোর তরজা। বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার তরফে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে তুলে নেওয়া হলো ওই বিজ্ঞাপনী ভিডিও।

রাখি উপলক্ষে জনপ্রিয় গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার দূত হিসেবে এক বিজ্ঞাপনী ভিডিও করেন কৃতি শ্যানন। আর তার প্রচারঝলক প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় সভ্যমহলের একাংশে। তাদের মতে, ‘কৃতির সাজপোশাক একেবারে বেমানান। রাখিবন্ধনের মতো পবিত্র উৎসবে খোলামেলা পোশাক পরে ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে কলুষিত করছেন তিনি।’ কারো কারো প্রশ্ন, ‘আলমারিতে আর কোনো পোশাক ছিল না?’ শুধু তাই নয়, রাখির বিজ্ঞাপনে পোষ্য সারমেয়কে রাখি বাঁধাতেও আপত্তি তুলেছেন একাংশ। বিতর্কের আবহে নিন্দুকদের উদ্দেশে পাল্টা  হাইভোল্টেজ জবাব ছুড়েছিলেন কৃতি, কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। এবার বিবৃতি জারি করে জনপ্রিয় ওই গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার তরফে জানানো হলো, ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান অটুট রেখেই ওই বিজ্ঞাপনী ভিডিও তুলে নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং উৎসবের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে। একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা বরাবরই পরিবারের সকলের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো উদযাপনে বিশ্বাসী। আর এবার আমরা সেই ভালোবাসা ও উদযাপনের অংশীদার করতে চেয়েছিলাম আমাদের পোষ্যদেরও। তাই আমাদের সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনটি যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে সমাজের কোনো অংশের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে থাকে, তবে সেটা মোটেও আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। শ্রদ্ধাবশত আমরা সব সোশাল প্ল্যাটফর্ম থেকে ওই বিজ্ঞাপনটি তুলে নিচ্ছি। এই উৎসবের মরসুমে আপনাদের সবার জন্য রইল ভালোবাসা ও শুভকামনা।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

সরিয়ে ফেলা হলো কৃতির সেই বিতর্কিত বিজ্ঞাপন

প্রকাশিত সময় : ০৫:২৮:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

সাদা ব্রা-লেটে লাস্যময়ী অবতারে রাখিবন্ধনের বিজ্ঞাপনে ধরা দিয়ে বিতর্কের মুখে বলিউড তারকা শ্যানন। ভারতীয় সংস্কৃতিকে কলুষিত করার অভিযোগে নিন্দার ঝড় সোশ্যাল মিডিয়াতেও। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয়েছে যে ,বিতর্ক থামাতে বড়সড় পদক্ষেপ করতে বাধ্য হলো গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থা। অভিযোগ, কৃতির অত্যাধুনিক পোশাক থেকে উঁকি দেওয়া উন্মুক্ত বক্ষবিভাজিকা ভারতের ঐতিহ্যবাহী রাখিবন্ধন উৎসবকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করেছে! এমন বিতর্কযজ্ঞে কৃতিকে এক হাত নেন ‘সংস্কারি’ সাংসদ ও অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত। এরপরই নারী স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করে কৃতী শ্যাননের ‘ঢাল’ হয়ে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। এককথায় ‘স্বল্পাবাসী’ নায়িকার রাখিবন্ধনের ভিডিও নিয়ে রাজনৈতিকমহলেও জোর তরজা। বিতর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছল যে গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার তরফে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম থেকে তুলে নেওয়া হলো ওই বিজ্ঞাপনী ভিডিও।

রাখি উপলক্ষে জনপ্রিয় গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার দূত হিসেবে এক বিজ্ঞাপনী ভিডিও করেন কৃতি শ্যানন। আর তার প্রচারঝলক প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় সভ্যমহলের একাংশে। তাদের মতে, ‘কৃতির সাজপোশাক একেবারে বেমানান। রাখিবন্ধনের মতো পবিত্র উৎসবে খোলামেলা পোশাক পরে ভারতীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে কলুষিত করছেন তিনি।’ কারো কারো প্রশ্ন, ‘আলমারিতে আর কোনো পোশাক ছিল না?’ শুধু তাই নয়, রাখির বিজ্ঞাপনে পোষ্য সারমেয়কে রাখি বাঁধাতেও আপত্তি তুলেছেন একাংশ। বিতর্কের আবহে নিন্দুকদের উদ্দেশে পাল্টা  হাইভোল্টেজ জবাব ছুড়েছিলেন কৃতি, কিন্তু তাতেও চিঁড়ে ভেজেনি। এবার বিবৃতি জারি করে জনপ্রিয় ওই গয়না প্রস্তুতকারক সংস্থার তরফে জানানো হলো, ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান অটুট রেখেই ওই বিজ্ঞাপনী ভিডিও তুলে নেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভারতীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং উৎসবের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে। একটি ব্র্যান্ড হিসেবে আমরা বরাবরই পরিবারের সকলের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো উদযাপনে বিশ্বাসী। আর এবার আমরা সেই ভালোবাসা ও উদযাপনের অংশীদার করতে চেয়েছিলাম আমাদের পোষ্যদেরও। তাই আমাদের সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপনটি যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে সমাজের কোনো অংশের অনুভূতিতে আঘাত দিয়ে থাকে, তবে সেটা মোটেও আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না। শ্রদ্ধাবশত আমরা সব সোশাল প্ল্যাটফর্ম থেকে ওই বিজ্ঞাপনটি তুলে নিচ্ছি। এই উৎসবের মরসুমে আপনাদের সবার জন্য রইল ভালোবাসা ও শুভকামনা।’