বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু

বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ শিশুর মৃত্যু হলো।

বুধবার বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশু বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো- বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা গ্রামের শংকর বল্লভের ছয় মাস বয়সী ছেলে তুর্ষ বল্লভ এবং বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামের মো. মিরাজের চার মাস বয়সী মেয়ে হুমায়রা।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৪৭ জন। এছাড়া ভোলায় সাতজন, বরগুনায় ছয়জন, পিরোজপুরে তিনজন এবং ঝালকাঠিতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

হামের উপসর্গ নিয়ে বরিশাল বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গত ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত ১৮ হাজার ১৫৫ রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭২২ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৭ হাজার ১৯৪ জন।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক রেফায়তুল হায়দার বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি কমে যায়নি। বিভিন্ন জেলায় এখনো এর প্রাদুর্ভাব রয়েছে। হাম আক্রান্ত হলে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। তখন শিশু নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। শিশু হাম আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। দেরি করে হাসপাতালে এলে শিশুকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যেতে পারে। প্রতিবেশী কোনো শিশু আক্রান্ত হলে অন্য শিশুরাও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এজন্য অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।

স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, জাতীয় গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাম আক্রান্ত শিশুরা যাতে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত সময় : ০৫:৩৪:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ শিশুর মৃত্যু হলো।

বুধবার বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশু বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো- বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাগধা গ্রামের শংকর বল্লভের ছয় মাস বয়সী ছেলে তুর্ষ বল্লভ এবং বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামের মো. মিরাজের চার মাস বয়সী মেয়ে হুমায়রা।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৪৭ জন। এছাড়া ভোলায় সাতজন, বরগুনায় ছয়জন, পিরোজপুরে তিনজন এবং ঝালকাঠিতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

হামের উপসর্গ নিয়ে বরিশাল বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে গত ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত ১৮ হাজার ১৫৫ রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৭২২ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১৭ হাজার ১৯৪ জন।

এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক রেফায়তুল হায়দার বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি কমে যায়নি। বিভিন্ন জেলায় এখনো এর প্রাদুর্ভাব রয়েছে। হাম আক্রান্ত হলে শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যায়। তখন শিশু নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অপুষ্টি ও মস্তিষ্কে প্রদাহসহ বিভিন্ন জীবাণুর সংক্রমণে আক্রান্ত হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। শিশু হাম আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। দেরি করে হাসপাতালে এলে শিশুকে বাঁচানো কঠিন হয়ে যেতে পারে। প্রতিবেশী কোনো শিশু আক্রান্ত হলে অন্য শিশুরাও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। এজন্য অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।

স্বাস্থ্য পরিচালক বলেন, জাতীয় গাইডলাইন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়ার জন্য হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাম আক্রান্ত শিশুরা যাতে দ্রুত চিকিৎসাসেবা পায়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।