বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীতে লাখো মানুষের জশনে জুলুস

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস। সাদা পোশাক ও টুপি পরা মানুষের উপস্থিতি, কালেমা খচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড, রঙিন ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকায় মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক।

আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া আয়োজনে সংগঠনটির সভাপতি শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়।

ভোরের আলো ফোটার আগ থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ সুফিবাদী জনতা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো উদ্যান পরিণত হয় মানুষের বিশাল মিলনমেলায়। নারী, পুরুষ ও বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পশ্চিম গেট থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন ও সচিবালয়  সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয়  আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ।

শোভাযাত্রার অগ্রভাগে থাকা বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল—‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ ও ‘ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা’। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কালেমা খচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও নানা বার্তা সংবলিত ফেস্টুন। বিশাল জাতীয় পতাকা বহন করেও অনেকেই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারীদের গায়ে ছিল সাদা টি-শার্ট, মাথায় সাদা ক্যাপ। শোভাযাত্রার পুরো পথে মুখরিত হতে থাকে ‘নারায়ে তাকবীর’ ও ‘নারায়ে রিসালাত’সহ নানা ধর্মীয় স্লোগান। নবীপ্রেমের আবেগ ও উৎসবমুখর পরিবেশে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় এক ভিন্ন আবহ।

শোভাযাত্রা শেষে আন্তর্জাতিক শান্তি সমাবেশে শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করলেই সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষকে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মহানবী (মা.)-এর আদর্শ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য শুধু আনুষ্ঠানিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—শাহজাদা সৈয়দ মেহেবুবে মইনুদ্দীন এবং মইনীয়া যুব ফোরামের সভাপতি ও ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব সুফি স্কলারসের আহ্বায়ক শাহজাদা সৈয়দ মাশুক মইনুদ্দী। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন—তুরস্কের শেখ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ এলহুসেইনী, মরক্কোর শেখ প্রফেসর ড. লাখদার দেরফুফি ও শায়খ সিদিআলী মা আলায়নিন, কানাডার শেখ ফয়সাল হামিদ আব্দুর রাজ্জাক, শ্রীলঙ্কার শেখ মোহাম্মদ রেজা বিন আব্দুল লতিফ আল মাগদুমী, জর্ডানের শেখ সাফওয়ান (মোহাম্মদ রিদা) আলী ওদেইবাত. সৌদি আরবের শেখ আল রাশেদ আব্দুল্লাহ হাম্মাদা, সোমালিয়ার শেখ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ওমর সৈয়দ, অস্ট্রেলিয়ার শেখ ডক্টর আব্দুল নাসের শামসিন, মিশরের শেখ প্রফেসর ড. ইউসরি রোশদি এল সাইয়্যিদ জাবর আল হাসানী, লেবাননের শেখ রিয়াদ হাসান বাজু, ব্রাজিলের শায়খ মোহাম্মদ আল মাগারবি, পাকিস্তানের শায়খ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল জালালী এবং ভারতের শায়খ নাবিল আখতার নওয়াজী।

উপস্থিত ও আলোচনা অংশগ্রহণ করেন—গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি ভাইস চ্যান্সেলর  প্রফেসর এমিরেটস ডক্টর আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর আখতারুজ্জামান। আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া  মাইজভাণ্ডারীয়ার  সাধারণ সম্পাদক খলিফা আলমগীর খান, মাওলানা মুফতী বাকি বিল্লাহ আজহারী,মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া প্রমুখ।

মহাসমাবেশে নারী অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় আবেগ ও শান্তির বার্তায় মুখর এ আয়োজন শেষে দেশ, জাতি, শান্তি ও মানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মোনাজাত পরিচালনা করেন—মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের বর্তমান ইমাম শাহ সুফি ড. শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজধানীতে লাখো মানুষের জশনে জুলুস

প্রকাশিত সময় : ০৫:৪৭:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও ১২ রবিউল আউয়াল উপলক্ষে রাজধানী ঢাকায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য জশনে জুলুস। সাদা পোশাক ও টুপি পরা মানুষের উপস্থিতি, কালেমা খচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড, রঙিন ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকায় মুখর হয়ে ওঠে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক।

আজ বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আঞ্জুমানে রহমানিয়া মইনীয়া মাইজভাণ্ডারীয়া আয়োজনে সংগঠনটির সভাপতি শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী মাইজভাণ্ডারীর নেতৃত্বে জশনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়।

ভোরের আলো ফোটার আগ থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ সুফিবাদী জনতা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জড়ো হতে শুরু করেন। সকাল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো উদ্যান পরিণত হয় মানুষের বিশাল মিলনমেলায়। নারী, পুরুষ ও বিভিন্ন বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পশ্চিম গেট থেকে শুরু হওয়া বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন ও সচিবালয়  সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয়  আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশ।

শোভাযাত্রার অগ্রভাগে থাকা বিশাল ব্যানারে লেখা ছিল—‘ইয়া নবী সালামু আলাইকা’ ও ‘ইয়া রাসূল সালামু আলাইকা’। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল কালেমা খচিত পতাকা, প্ল্যাকার্ড ও নানা বার্তা সংবলিত ফেস্টুন। বিশাল জাতীয় পতাকা বহন করেও অনেকেই শোভাযাত্রায় অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারীদের গায়ে ছিল সাদা টি-শার্ট, মাথায় সাদা ক্যাপ। শোভাযাত্রার পুরো পথে মুখরিত হতে থাকে ‘নারায়ে তাকবীর’ ও ‘নারায়ে রিসালাত’সহ নানা ধর্মীয় স্লোগান। নবীপ্রেমের আবেগ ও উৎসবমুখর পরিবেশে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় এক ভিন্ন আবহ।

শোভাযাত্রা শেষে আন্তর্জাতিক শান্তি সমাবেশে শাহসূফী ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত। তাঁর শিক্ষা ও আদর্শ অনুসরণ করলেই সমাজে ন্যায়, মানবিকতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) মানুষকে সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা ও মানবিকতার শিক্ষা দিয়েছেন। বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত ও অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে মহানবী (মা.)-এর আদর্শ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

বিএসপি চেয়ারম্যান বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবীর তাৎপর্য শুধু আনুষ্ঠানিক উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ন্যায়বিচার, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আন্তর্জাতিক শান্তি মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—শাহজাদা সৈয়দ মেহেবুবে মইনুদ্দীন এবং মইনীয়া যুব ফোরামের সভাপতি ও ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব সুফি স্কলারসের আহ্বায়ক শাহজাদা সৈয়দ মাশুক মইনুদ্দী। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন—তুরস্কের শেখ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ এলহুসেইনী, মরক্কোর শেখ প্রফেসর ড. লাখদার দেরফুফি ও শায়খ সিদিআলী মা আলায়নিন, কানাডার শেখ ফয়সাল হামিদ আব্দুর রাজ্জাক, শ্রীলঙ্কার শেখ মোহাম্মদ রেজা বিন আব্দুল লতিফ আল মাগদুমী, জর্ডানের শেখ সাফওয়ান (মোহাম্মদ রিদা) আলী ওদেইবাত. সৌদি আরবের শেখ আল রাশেদ আব্দুল্লাহ হাম্মাদা, সোমালিয়ার শেখ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ওমর সৈয়দ, অস্ট্রেলিয়ার শেখ ডক্টর আব্দুল নাসের শামসিন, মিশরের শেখ প্রফেসর ড. ইউসরি রোশদি এল সাইয়্যিদ জাবর আল হাসানী, লেবাননের শেখ রিয়াদ হাসান বাজু, ব্রাজিলের শায়খ মোহাম্মদ আল মাগারবি, পাকিস্তানের শায়খ প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাফর ইকবাল জালালী এবং ভারতের শায়খ নাবিল আখতার নওয়াজী।

উপস্থিত ও আলোচনা অংশগ্রহণ করেন—গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি ভাইস চ্যান্সেলর  প্রফেসর এমিরেটস ডক্টর আনিসুজ্জামান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর আখতারুজ্জামান। আনজুমানে রহমানিয়া মইনীয়া  মাইজভাণ্ডারীয়ার  সাধারণ সম্পাদক খলিফা আলমগীর খান, মাওলানা মুফতী বাকি বিল্লাহ আজহারী,মাওলানা রুহুল আমিন ভূঁইয়া প্রমুখ।

মহাসমাবেশে নারী অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় আবেগ ও শান্তির বার্তায় মুখর এ আয়োজন শেষে দেশ, জাতি, শান্তি ও মানবতার কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মোনাজাত পরিচালনা করেন—মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফের বর্তমান ইমাম শাহ সুফি ড. শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী।