বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৮ বছরের শিশুর মাথা বিচ্ছিন্ন: ফোন ট্র্যাকে আটক সোহেল, লাশের সঙ্গে বর্বরতা

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক মেয়ে শিশুকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে আটক করা হয়েছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের প্রায় সাত ঘণ্টার মাথায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সোহেলের বাসা থেকে আট বছর বয়সী মেয়েটির গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ এবং অন্য আলামত দেখে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে। শিশুটির বিছিন্ন মাথা পাওয়া যায় ঘরের ভেতরে একটি বালতিতে। স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করার সময় সোহেল পালিয়ে গেলেও তাৎক্ষণিক আটক হয়েছিলেন তার স্ত্রী।

এরপর টানা অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিয়ে সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয়রা জানায়, শিশুটির বাবা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার একজন রিকশা মিস্ত্রি। পরিবারের সঙ্গে সে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের বাসায় থাকত। একই ভবনের পাশের বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন সোহেল। প্রতিবেশী হওয়ায় শিশুটির পরিবারের সঙ্গে সোহেল ও তার স্ত্রীর পরিচয় ছিল। মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

এক পর্যায়ে সোহেলের বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মাথাবিহীন বিবস্ত্র দেহটি খাটের পাশে মেঝেতে পড়ে ছিল। আর বিচ্ছিন্ন মাথাটি বাসায় একটি বালতির মধ্যে পাওয়া যায়। মাথার সঙ্গে একটি ওড়না পেঁচানো ছিল বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পল্লবী থানার এসআই মো. ইকবাল বলেন, ‘আমরা বাসায় গিয়ে শিশুটিকে উদোম গায়ে মাথাবিহীন অবস্থায় পাই। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশ মর্গে পাঠানো হয়। আগামীকাল তার ময়নাতদন্ত হবে। শিশুটির মাথাই শুধু বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। কাঁধের অংশ থেকে দুই হাত কাটা ছিল। চামড়ার সঙ্গে ঝুলে ছিল হাত। এ ছাড়া যৌনাঙ্গের পাশেও বড় ক্ষতচিহ্ন ছিল।’

পল্লাবী থানার আরেক পুলিশ কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান ভুঁইয়া রিপন নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেলকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিশুটিকে হত্যার পর সোহেল ও তার স্ত্রী বাসার ভেতর থেকে দরজা আটকে ভেতরে অবস্থান করছিলেন। বাইরে হৈ-হুল্লোড় শুরু হলে সোহেল ঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে স্ত্রীকে স্থানীয়রা আটক করে। পরে মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে সোহেলের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লাহ থেকে আমরা আটক করতে সক্ষম হই। সোহেল ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুরো ঘটনা সম্পর্কে পরিষ্কার হওয়া যাবে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

৮ বছরের শিশুর মাথা বিচ্ছিন্ন: ফোন ট্র্যাকে আটক সোহেল, লাশের সঙ্গে বর্বরতা

প্রকাশিত সময় : ০৯:৩২:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের এক মেয়ে শিশুকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন সোহেল রানাকে আটক করা হয়েছে পুলিশ। মরদেহ উদ্ধারের প্রায় সাত ঘণ্টার মাথায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সোহেলের বাসা থেকে আট বছর বয়সী মেয়েটির গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহ এবং অন্য আলামত দেখে প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়ে থাকতে পারে। শিশুটির বিছিন্ন মাথা পাওয়া যায় ঘরের ভেতরে একটি বালতিতে। স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি করার সময় সোহেল পালিয়ে গেলেও তাৎক্ষণিক আটক হয়েছিলেন তার স্ত্রী।

এরপর টানা অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিয়ে সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে আটক করা হয়। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি বাসা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এরপর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাঠানো হয় শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে।

পুলিশ জানায়, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয়রা জানায়, শিশুটির বাবা মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার একজন রিকশা মিস্ত্রি। পরিবারের সঙ্গে সে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের বাসায় থাকত। একই ভবনের পাশের বাসায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন সোহেল। প্রতিবেশী হওয়ায় শিশুটির পরিবারের সঙ্গে সোহেল ও তার স্ত্রীর পরিচয় ছিল। মঙ্গলবার সকালে শিশুটিকে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে।

এক পর্যায়ে সোহেলের বাসা থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মাথাবিহীন বিবস্ত্র দেহটি খাটের পাশে মেঝেতে পড়ে ছিল। আর বিচ্ছিন্ন মাথাটি বাসায় একটি বালতির মধ্যে পাওয়া যায়। মাথার সঙ্গে একটি ওড়না পেঁচানো ছিল বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।

পল্লবী থানার এসআই মো. ইকবাল বলেন, ‘আমরা বাসায় গিয়ে শিশুটিকে উদোম গায়ে মাথাবিহীন অবস্থায় পাই। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে লাশ মর্গে পাঠানো হয়। আগামীকাল তার ময়নাতদন্ত হবে। শিশুটির মাথাই শুধু বিচ্ছিন্ন করা হয়নি। কাঁধের অংশ থেকে দুই হাত কাটা ছিল। চামড়ার সঙ্গে ঝুলে ছিল হাত। এ ছাড়া যৌনাঙ্গের পাশেও বড় ক্ষতচিহ্ন ছিল।’

পল্লাবী থানার আরেক পুলিশ কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান ভুঁইয়া রিপন নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেলকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘শিশুটিকে হত্যার পর সোহেল ও তার স্ত্রী বাসার ভেতর থেকে দরজা আটকে ভেতরে অবস্থান করছিলেন। বাইরে হৈ-হুল্লোড় শুরু হলে সোহেল ঘরের জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। তবে স্ত্রীকে স্থানীয়রা আটক করে। পরে মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে সোহেলের অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লাহ থেকে আমরা আটক করতে সক্ষম হই। সোহেল ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পুরো ঘটনা সম্পর্কে পরিষ্কার হওয়া যাবে।’