জনপ্রতিনিধি হওয়া নিছক সম্মান, ক্ষমতা কিংবা সামাজিক মর্যাদা অর্জনের বিষয় নয়; এটি একটি বড় আমানত ও দায়িত্ব। একজন জনপ্রতিনিধির একটি সিদ্ধান্তে যেমন অসংখ্য মানুষের জীবন সহজ হতে পারে, তেমনি ভুল সিদ্ধান্তে অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্তও হতে পারে।
তাই জনগণের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তির প্রয়োজন শুধু যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা কিংবা প্রজ্ঞা নয়—এর সঙ্গে প্রয়োজন আল্লাহর সাহায্য, হেদায়াত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক।
এ কারণেই কোরআনে বর্ণিত ইউসুফ (আ.)-এর একটি অসাধারণ দোয়া জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব লাভের পরও তিনি নিজের সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করেননি; বরং আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়েছেন এবং শেষ জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হিসেবে চেয়েছেন—তিনি যেন মুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এবং সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হন। দোয়াটি হলো-
رَبِّ قَدْ آتَيْتَنِي مِنَ الْمُلْكِ وَعَلَّمْتَنِي مِن تَأْوِيلِ الْأَحَادِيثِ فَاطِرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ أَنتَ وَلِيِّي فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ تَوَفَّنِي مُسْلِمًا وَأَلْحِقْنِي بِالصَّالِحِينَ
উচ্চারণ : রব্বি ক্বাদ আতাইতানি মিনাল মুলকি ওয়া আল্লামতানি মিন তা’উইলিল আহাদিছি, ফাতিরাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি, আনতা ওয়ালিয়্যি ফিদ্দুনইয়া ওয়াল-আখিরাতি, তাওয়াফফানি মুসলিমাও ওয়া আলহিকনি বিস-সালিহীন।
অর্থ : ‘হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে রাজ্য দান করেছেন এবং আমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ের তাৎপর্য শিক্ষা দিয়েছেন। হে আসমানসমূহ ও জমিনের স্রষ্টা! আপনিই দুনিয়া ও আখিরাতে আমার অভিভাবক। আপনি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দিন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’ (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ১০১)
জনপ্রতিনিধিদের জন্য কেন এই দোয়া গুরুত্বপূর্ণ?
এই দোয়ায় একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় রয়েছে।
প্রথমত, ক্ষমতা আল্লাহর দান—এ কথা স্বীকার করা হয়েছে। হজরত ইউসুফ (আ.) বলেছেন, ‘আপনি আমাকে রাজ্য দান করেছেন।’ অর্থাৎ ক্ষমতা নিজের কৃতিত্ব নয়; এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত।
দ্বিতীয়ত, জ্ঞান ও প্রজ্ঞাও আল্লাহর দান। তিনি বলেছেন, ‘আপনি আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন।
’ একজন জনপ্রতিনিধি যতই অভিজ্ঞ বা শিক্ষিত হোন না কেন, সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য আল্লাহর হেদায়াত ও তাওফিকের প্রয়োজন রয়েছে।
তৃতীয়ত, আল্লাহই প্রকৃত অভিভাবক। তিনি ঘোষণা করেছেন, ‘আপনিই দুনিয়া ও আখিরাতে আমার অভিভাবক।’ একজন জনপ্রতিনিধি যদি এই বিশ্বাস অন্তরে ধারণ করেন, তাহলে তিনি জনগণের সঙ্গে অন্যায় করতে ভয় পাবেন। কারণ তিনি জানবেন—জনগণকে হয়তো ফাঁকি দেওয়া সম্ভব, কিন্তু আল্লাহকে ফাঁকি দেওয়া সম্ভব নয়।
চতুর্থত, ক্ষমতার চূড়ান্ত লক্ষ্য দুনিয়া নয়, আখিরাতের সফলতা। তাই হজরত ইউসুফ (আ.) ক্ষমতা, সম্পদ ও মর্যাদার পরও দোয়া করেছেন—‘আপনি আমাকে মুসলিম হিসেবে মৃত্যু দিন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























