মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২৭তম নজরুল জয়ন্তী উদ্যাপিত

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী ১২৭তম নজরুল জয়ন্তী যথাযথ মর্যাদায় উদ্যাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সোমবার পুরনো প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স কক্ষে উদ্বোধন করা হয়। নজরুল জয়ন্তী উদ্যাপনে আন্তর্জাতিক নজরুল-বক্তৃতামালা, নজরুল পদক প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন তাঁর বক্তব্যের শুরুতে যাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও যিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাত্র এক বছরের মাথায় উদ্বোধন করেছেন সেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী. দেশনেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় কবির নামে হওয়ায় সকল ক্ষেত্রেই আলাদা সহযোগিতা পাচ্ছি। দেশের প্রায় ১৭০টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২০ বছরে একাডেমিক ও অবকাঠামো সবদিকেই অনেক উন্নতি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কবির জীবদ্দশায় কবিকে যথাযথ সম্মান দেখানো হয় নি। যার যতটুকু সম্মান প্রাপ্য, তাঁকে ততটুকু সম্মান দিতে হবে। আর প্রচারেই প্রসার, তবে কবি নজরুলের সৃষ্টিকর্মের তেমন প্রচার হয় নি। নজরুলের স্মৃতি ও অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে এই বিশ্ববিদ্যালয় ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশে নজরুল গবেষণার প্রাণকেন্দ্র হবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে ১টি করে নজরুলের কোর্স পড়ানো হয়। নজরুলের প্রতিটি কথা/শব্দই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর গান, কবিতাসহ সৃষ্টিকর্মগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হলে তিনি নোবেল পুরস্কার পেতেন।’

নজরুলচর্চায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সম্মাননা ‘নজরুল পদক ২০২৬’ একজন গবেষক ও একজন শিল্পীকে প্রদান করা হয়। গবেষণায় নজরুল-গবেষক আবদুল হাই শিকদারকে এই পদক প্রদান করেন প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। সংগীতে নজরুল-শিল্পী শবনম মুশতারীর পদক গ্রহণের কথা থাকলেও অসুস্থ্যতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হতে পারেন নি। ফলে তাঁর পদক পরবর্তীতে তাঁর নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত ‘গাহি সাম্যের গান’ প্রকাশনার মোড়ক উম্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক নজরুল চর্চা কেন্দ্রের মহাসচিব প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান শেলী। অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

আন্তর্জাতিক নজরুল-বক্তৃতামালায় ৪টি অধিবেশনে মোট ৮টি প্রবন্ধ পাঠ করা হয়। প্রথম অধিবেশনে কবি আবদুল হাই শিকদারের সভাপতিত্বে বক্তৃতামালায় ‘স্মৃতিতে নজরুল : প্রসঙ্গ মুজফ্ফর আহ্মদের কাজী নজরুল ইসলাম : স্মৃতিকথা’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. পারভীন আক্তার জেমী ও ‘কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যে আত্মদর্শন’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাইফ। আলোচনা করেন যথাক্রমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ড. কল্পনা হেনা রুমি ও কুমিল্লার নজরুল-গবেষক ও এনজিও কর্মী পীযূষ কুমার ভট্টাচার্য্য। সঞ্চালনা করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানিয়া আক্তার।

দ্বিতীয় অধিবেশনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদার সভাপতিত্বে বক্তৃতামালায় ‘কাজী নজরুল ইসলাম এন্ড দি ডেমেক্রেটাইজেশন অব দি বেঙ্গল রেনেসাঁস’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট অব ইকোনোমিকস বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক শামস আরেফিন ও ‘দি লিটারেরি ফ্রেন্ডশীপ এন্ড আইডিওলজিক্যাল ব্রাদারহুড অব কাজী নজরুল ইসলাম এন্ড আবুল মনসুর আহমেদ’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর মোহাম্মদ। আলোচনা করেন যথাক্রমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির ও ডেইলি স্টারের লিটারেরি এডিটর ইমরান মাহফুজ। সঞ্চালনা করেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল এহসান।

তৃতীয় অধিবেশনে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)এর সভাপতিত্বে বক্তৃতামালায় ‘মাহে নও সচিত্র মাসিক পত্রিকায় নজরুলচর্চা’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আলীম ও ‘ নজরুল কাব্যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক বিদ্রোহ’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক গাউসুর রহমান। আলোচনা করেন যথাক্রমে পুণ্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. তপন কুমার রায়। সঞ্চালনা করেন ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আনাম।

চতুর্থ অধিবেশনে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট নজরুল-গবেষক এবং ফ্যাকাল্টি প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবীর সভাপতিত্বে বক্তৃতামালায় ‘প্রমিত সুর ও বাণী: নজরুল সংগীতের জীবনী-শক্তি’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন (অনলাইনে) ভারতের আগরতলার বিশিষ্ট নজরুল-গবেষক ও নজরুল সংগীত প্রশিক্ষক শিল্পী মায়া রায় ও ‘ভারতীয় প্রাদেশিক ভাষায় নজরুলের ভাষান্তর: অনুবাদতত্ত্ব ও সমাজতত্ত্ব’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন (অনলাইনে) ভারতের কলকাতার বিশিষ্ট নজরুল- গবেষক ড. শেখ মকবুল ইসলাম। আলোচনা করেন যথাক্রমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাসমী এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. আশিক সরকার। সঞ্চালনা করেন বাংলাভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানিয়া আক্তার।

সন্ধ্যায় নবনির্মিত টিএসসি ভবনের দ্বিতীয় তলায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশিত হয়। বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী ১২৭তম নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালা।

উল্লেখ্য কবির জন্মদিনে পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকায় বিশ্ববিদ্যায় কর্তৃপক্ষ সংক্ষিপ্তাকারে নজরুল জয়ন্তী উদ্যাপন করেন। কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২৫ মে ২০২৬ (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩) সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ হতে ‘নজরুল ভাস্কর্যে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। এসময় ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন এবং নজরুল গবেষক, কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার সাথে ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের সেই বল ৪১ কোটি টাকায় বিক্রি

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১২৭তম নজরুল জয়ন্তী উদ্যাপিত

প্রকাশিত সময় : ০৯:০৩:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দিনব্যাপী ১২৭তম নজরুল জয়ন্তী যথাযথ মর্যাদায় উদ্যাপন করা হয়। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। ২৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সোমবার পুরনো প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলায় কনফারেন্স কক্ষে উদ্বোধন করা হয়। নজরুল জয়ন্তী উদ্যাপনে আন্তর্জাতিক নজরুল-বক্তৃতামালা, নজরুল পদক প্রদান এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন তাঁর বক্তব্যের শুরুতে যাঁর নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও যিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন এবং ভিত্তি প্রস্তর স্থাপনের মাত্র এক বছরের মাথায় উদ্বোধন করেছেন সেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী. দেশনেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় কবির নামে হওয়ায় সকল ক্ষেত্রেই আলাদা সহযোগিতা পাচ্ছি। দেশের প্রায় ১৭০টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২০ বছরে একাডেমিক ও অবকাঠামো সবদিকেই অনেক উন্নতি করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কবির জীবদ্দশায় কবিকে যথাযথ সম্মান দেখানো হয় নি। যার যতটুকু সম্মান প্রাপ্য, তাঁকে ততটুকু সম্মান দিতে হবে। আর প্রচারেই প্রসার, তবে কবি নজরুলের সৃষ্টিকর্মের তেমন প্রচার হয় নি। নজরুলের স্মৃতি ও অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে এই বিশ্ববিদ্যালয় ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশে নজরুল গবেষণার প্রাণকেন্দ্র হবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে ১টি করে নজরুলের কোর্স পড়ানো হয়। নজরুলের প্রতিটি কথা/শব্দই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর গান, কবিতাসহ সৃষ্টিকর্মগুলো বিভিন্ন ভাষায় অনুবাদ করা হলে তিনি নোবেল পুরস্কার পেতেন।’

নজরুলচর্চায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সম্মাননা ‘নজরুল পদক ২০২৬’ একজন গবেষক ও একজন শিল্পীকে প্রদান করা হয়। গবেষণায় নজরুল-গবেষক আবদুল হাই শিকদারকে এই পদক প্রদান করেন প্রধান অতিথি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। সংগীতে নজরুল-শিল্পী শবনম মুশতারীর পদক গ্রহণের কথা থাকলেও অসুস্থ্যতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হতে পারেন নি। ফলে তাঁর পদক পরবর্তীতে তাঁর নিকট পৌঁছে দেওয়া হবে। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষ্যে প্রকাশিত ‘গাহি সাম্যের গান’ প্রকাশনার মোড়ক উম্মোচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক নজরুল চর্চা কেন্দ্রের মহাসচিব প্রকৌশলী রাশেদুল হাসান শেলী। অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, দপ্তর প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

আন্তর্জাতিক নজরুল-বক্তৃতামালায় ৪টি অধিবেশনে মোট ৮টি প্রবন্ধ পাঠ করা হয়। প্রথম অধিবেশনে কবি আবদুল হাই শিকদারের সভাপতিত্বে বক্তৃতামালায় ‘স্মৃতিতে নজরুল : প্রসঙ্গ মুজফ্ফর আহ্মদের কাজী নজরুল ইসলাম : স্মৃতিকথা’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. পারভীন আক্তার জেমী ও ‘কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যে আত্মদর্শন’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাইফ। আলোচনা করেন যথাক্রমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ড. কল্পনা হেনা রুমি ও কুমিল্লার নজরুল-গবেষক ও এনজিও কর্মী পীযূষ কুমার ভট্টাচার্য্য। সঞ্চালনা করেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানিয়া আক্তার।

দ্বিতীয় অধিবেশনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদার সভাপতিত্বে বক্তৃতামালায় ‘কাজী নজরুল ইসলাম এন্ড দি ডেমেক্রেটাইজেশন অব দি বেঙ্গল রেনেসাঁস’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট অব ইকোনোমিকস বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক শামস আরেফিন ও ‘দি লিটারেরি ফ্রেন্ডশীপ এন্ড আইডিওলজিক্যাল ব্রাদারহুড অব কাজী নজরুল ইসলাম এন্ড আবুল মনসুর আহমেদ’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজির ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আলমগীর মোহাম্মদ। আলোচনা করেন যথাক্রমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুল্লাহ আল মুক্তাদির ও ডেইলি স্টারের লিটারেরি এডিটর ইমরান মাহফুজ। সঞ্চালনা করেন ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল এহসান।

তৃতীয় অধিবেশনে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মো. হাবিব-উল-মাওলা (মাওলা প্রিন্স)এর সভাপতিত্বে বক্তৃতামালায় ‘মাহে নও সচিত্র মাসিক পত্রিকায় নজরুলচর্চা’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মো. আব্দুল আলীম ও ‘ নজরুল কাব্যে সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাহিত্যিক বিদ্রোহ’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সহযোগী অধ্যাপক গাউসুর রহমান। আলোচনা করেন যথাক্রমে পুণ্ড্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. শহীদুর রহমান ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. তপন কুমার রায়। সঞ্চালনা করেন ইন্সটিটিউট অব নজরুল স্টাডিজের অতিরিক্ত পরিচালক রাশেদুল আনাম।

চতুর্থ অধিবেশনে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশিষ্ট নজরুল-গবেষক এবং ফ্যাকাল্টি প্রফেসর ড. রশিদুন্ নবীর সভাপতিত্বে বক্তৃতামালায় ‘প্রমিত সুর ও বাণী: নজরুল সংগীতের জীবনী-শক্তি’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন (অনলাইনে) ভারতের আগরতলার বিশিষ্ট নজরুল-গবেষক ও নজরুল সংগীত প্রশিক্ষক শিল্পী মায়া রায় ও ‘ভারতীয় প্রাদেশিক ভাষায় নজরুলের ভাষান্তর: অনুবাদতত্ত্ব ও সমাজতত্ত্ব’ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন (অনলাইনে) ভারতের কলকাতার বিশিষ্ট নজরুল- গবেষক ড. শেখ মকবুল ইসলাম। আলোচনা করেন যথাক্রমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের প্রফেসর ড. আহমেদ শাকিল হাসমী এবং সহযোগী অধ্যাপক ড. আশিক সরকার। সঞ্চালনা করেন বাংলাভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানিয়া আক্তার।

সন্ধ্যায় নবনির্মিত টিএসসি ভবনের দ্বিতীয় তলায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশিত হয়। বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দুই দিনব্যাপী ১২৭তম নজরুল জয়ন্তীর অনুষ্ঠানমালা।

উল্লেখ্য কবির জন্মদিনে পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি থাকায় বিশ্ববিদ্যায় কর্তৃপক্ষ সংক্ষিপ্তাকারে নজরুল জয়ন্তী উদ্যাপন করেন। কবির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ২৫ মে ২০২৬ (১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩) সোমবার বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ হতে ‘নজরুল ভাস্কর্যে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। এসময় ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন এবং নজরুল গবেষক, কবি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার সাথে ছিলেন।