বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদেশ ভ্রমণে সুখবর

বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য এখন থেকে বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করতে পারবেন ভ্রমণকারীরা। স্থানীয়ভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর অপারেটরদের বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ রোববার ( ০৯ আগস্ট) জারি করা নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সুবিধার কথা জানিয়েছে। ফলে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের আওতায় হোটেল, যাতায়াতসহ গন্তব্যস্থানের অন্যান্য সেবার মূল্য টাকায় পরিশোধ করা যাবে।

নতুন ব্যবস্থায় ট্যুর অপারেটররা ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে দেশে টাকায় প্যাকেজের মূল্য সংগ্রহ করতে পারবেন। এরপর অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকার বিপরীতে প্রচলিত বিনিময় হারে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সুবিধা পেতে ট্যুর অপারেটরদের ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর সদস্য হতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে তাদের চুক্তি বা সমঝোতা থাকতে হবে।

বিদেশি প্যাকেজের বিপরীতে এ ব্যবস্থায় একজন ভ্রমণকারীর জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে। এই সীমা ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রার কোটার বাইরে প্রযোজ্য হবে।

তবে এ সুবিধা শুধু সেই বিদেশ ভ্রমণ প্যাকেজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, যার মূল্য গ্রাহক বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকা যে প্রকৃতপক্ষে বিদেশ ভ্রমণের সেবার বিপরীতে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। এর মধ্যে বিদেশি সেবা প্রদানকারীর ইনভয়েস বা চুক্তিপত্র, বিস্তারিত ভ্রমণসূচি ও ব্যয়ের হিসাব, ভ্রমণকারীদের পাসপোর্ট নম্বরসহ তালিকা, দেশীয় ও বিদেশি ট্যুর অপারেটরের মধ্যকার চুক্তি এবং গ্রাহকের কাছ থেকে টাকায় অর্থ গ্রহণের প্রমাণ থাকতে হবে।

প্রতিটি ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে ট্যুর অপারেটরদের। একই সঙ্গে একটি ক্যালেন্ডার বছরে প্রত্যেক ভ্রমণকারীর জন্য মোট কত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করা হয়েছে, তারও সমন্বিত হিসাব রাখতে হবে।

কোনো ভ্রমণকারী অন্য কোনো ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে তার বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রার সীমা ইতিমধ্যে ব্যবহার করেছেন কি না, সে বিষয়ে তার কাছ থেকে ঘোষণাপত্রও নিতে হবে ট্যুর অপারেটরদের।

ট্যুর অপারেটররা তাদের সেবা মূল্য বা কমিশন বাংলাদেশি টাকায় রেখে দিতে পারবেন। তবে বিদেশি অংশীদারদের কাছে পাঠানো অর্থের পরিমাণ হতে হবে প্রযোজ্য কর বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত পাওনা অর্থের সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই সুবিধা শুধু প্রকৃত বিদেশ ভ্রমণসেবার জন্য ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অর্থ স্থানান্তর, নিশ্চিত বুকিং বা চুক্তিগত দায়বদ্ধতা ছাড়া আগাম অর্থ পাঠানো কিংবা ভ্রমণ ব্যয়ের আড়ালে মূলধনী হিসাবের লেনদেন এ ব্যবস্থার আওতায় করা যাবে না।

বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করবে এবং লেনদেনটি প্রকৃত ও বৈধ কি না, তা নিশ্চিত করবে। অর্থ পাঠানোর পর সাত দিনের মধ্যে এসব রেমিট্যান্সের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা যাচাই করবে।

বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের বিপরীতে অর্থ পাঠানোর বিষয়ে গত ৭ মে জারি করা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত নির্দেশনা এফইপিডি-তে থাকা বিধান সংশোধন করে নতুন নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছে।

সূত্র: বাসস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

বিদেশ ভ্রমণে সুখবর

প্রকাশিত সময় : ০৯:৫৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য এখন থেকে বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করতে পারবেন ভ্রমণকারীরা। স্থানীয়ভাবে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ট্যুর অপারেটরদের বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আজ রোববার ( ০৯ আগস্ট) জারি করা নির্দেশনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ সুবিধার কথা জানিয়েছে। ফলে বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের আওতায় হোটেল, যাতায়াতসহ গন্তব্যস্থানের অন্যান্য সেবার মূল্য টাকায় পরিশোধ করা যাবে।

নতুন ব্যবস্থায় ট্যুর অপারেটররা ভ্রমণকারীদের কাছ থেকে দেশে টাকায় প্যাকেজের মূল্য সংগ্রহ করতে পারবেন। এরপর অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে সংশ্লিষ্ট ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকার বিপরীতে প্রচলিত বিনিময় হারে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সুবিধা পেতে ট্যুর অপারেটরদের ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব)-এর সদস্য হতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ট্যুর অপারেটর, হোটেল বা ডেস্টিনেশন ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সঙ্গে তাদের চুক্তি বা সমঝোতা থাকতে হবে।

বিদেশি প্যাকেজের বিপরীতে এ ব্যবস্থায় একজন ভ্রমণকারীর জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রা পাঠানো যাবে। এই সীমা ভ্রমণের জন্য নির্ধারিত বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রার কোটার বাইরে প্রযোজ্য হবে।

তবে এ সুবিধা শুধু সেই বিদেশ ভ্রমণ প্যাকেজের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে, যার মূল্য গ্রাহক বাংলাদেশি টাকায় পরিশোধ করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গ্রাহকের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকা যে প্রকৃতপক্ষে বিদেশ ভ্রমণের সেবার বিপরীতে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করতে হবে। এর মধ্যে বিদেশি সেবা প্রদানকারীর ইনভয়েস বা চুক্তিপত্র, বিস্তারিত ভ্রমণসূচি ও ব্যয়ের হিসাব, ভ্রমণকারীদের পাসপোর্ট নম্বরসহ তালিকা, দেশীয় ও বিদেশি ট্যুর অপারেটরের মধ্যকার চুক্তি এবং গ্রাহকের কাছ থেকে টাকায় অর্থ গ্রহণের প্রমাণ থাকতে হবে।

প্রতিটি ভ্রমণকারীর পাসপোর্ট নম্বরের বিপরীতে লেনদেনের রেকর্ড সংরক্ষণ করতে হবে ট্যুর অপারেটরদের। একই সঙ্গে একটি ক্যালেন্ডার বছরে প্রত্যেক ভ্রমণকারীর জন্য মোট কত বৈদেশিক মুদ্রা ছাড় করা হয়েছে, তারও সমন্বিত হিসাব রাখতে হবে।

কোনো ভ্রমণকারী অন্য কোনো ট্যুর অপারেটরের মাধ্যমে তার বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রার সীমা ইতিমধ্যে ব্যবহার করেছেন কি না, সে বিষয়ে তার কাছ থেকে ঘোষণাপত্রও নিতে হবে ট্যুর অপারেটরদের।

ট্যুর অপারেটররা তাদের সেবা মূল্য বা কমিশন বাংলাদেশি টাকায় রেখে দিতে পারবেন। তবে বিদেশি অংশীদারদের কাছে পাঠানো অর্থের পরিমাণ হতে হবে প্রযোজ্য কর বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত পাওনা অর্থের সমান।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, এই সুবিধা শুধু প্রকৃত বিদেশ ভ্রমণসেবার জন্য ব্যবহার করা যাবে। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে অর্থ স্থানান্তর, নিশ্চিত বুকিং বা চুক্তিগত দায়বদ্ধতা ছাড়া আগাম অর্থ পাঠানো কিংবা ভ্রমণ ব্যয়ের আড়ালে মূলধনী হিসাবের লেনদেন এ ব্যবস্থার আওতায় করা যাবে না।

বিদেশে অর্থ পাঠানোর আগে অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র যাচাই করবে এবং লেনদেনটি প্রকৃত ও বৈধ কি না, তা নিশ্চিত করবে। অর্থ পাঠানোর পর সাত দিনের মধ্যে এসব রেমিট্যান্সের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংককে জানাতে হবে। পরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তা যাচাই করবে।

বিদেশ ভ্রমণের প্যাকেজের বিপরীতে অর্থ পাঠানোর বিষয়ে গত ৭ মে জারি করা বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত নির্দেশনা এফইপিডি-তে থাকা বিধান সংশোধন করে নতুন নির্দেশনাটি জারি করা হয়েছে।

সূত্র: বাসস