যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত এবং তার অপরাধ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ হিসেবে গণ্য করা হবে। কারণ সন্দেহের ক্ষেত্রে তার পক্ষে ব্যাখ্যা করা হবে।
তাই আল্লাহ তাআলা কোনো সংবাদ প্রচার বা তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তা যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে মিথ্যা বা ভিত্তিহীন সংবাদ দ্বারা কোনো ব্যক্তির ওপর অন্যায়ভাবে রায় দেওয়া না হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন : ‘হে মুমিনরা! যদি কোনো পাপী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করে নাও; যাতে অজ্ঞতাবশত তোমরা কোনো সম্প্রদায়ের ক্ষতি করে না বসো এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।’ (সুরা : আল-হুজুরাত, আয়াত : ৬)
মহান আল্লাহ মন্দ ধারণা থেকে আমাদের বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। এখানে যে ধারণা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে, তা হলো যে অভিযোগের পেছনে কোনো গ্রহণযোগ্য কারণ বা প্রমাণ নেই।
আল্লাহ বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমরা বেশির ভাগ অনুমান থেকে বেঁচে থাকো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো অনুমান পাপ। আর তোমরা গোপন বিষয় অনুসন্ধান কোরো না।’ (সুরা : আল-হুজুরাত, আয়াত : ১২
অর্থাৎ কারো বাহ্যিক অবস্থা ভালো জানা থাকা সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ ছাড়া খারাপ ধারণা পোষণ করা উচিত নয়।
সুতরাং উক্ত আয়াতে ‘ধারণা’ বলতে ভিত্তিহীন অভিযোগ বা সন্দেহ বোঝানো হয়েছে।
বিশেষ করে এমন অভিযোগ, যার পক্ষে কোনো কারণ বা প্রমাণ নেই—যেমন কাউকে ব্যভিচার বা মদ্যপানের অভিযোগে অভিযুক্ত করা, অথচ তার বিরুদ্ধে এমন কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ নেই, যা ওই অভিযোগকে সমর্থন করে—এ ধরনের অভিযোগ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।
এখানে ‘ধারণা’ শব্দটি ‘অভিযোগ’ অর্থে ব্যবহৃত হওয়ার প্রমাণ হলো এর পরই বলা হয়েছে, ‘তোমরা গোপন অনুসন্ধান কোরো না।’ কারণ প্রথমে কারো সম্পর্কে মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়, এরপর সেই সন্দেহ সত্য কি না তা জানার জন্য তার গোপন বিষয় অনুসন্ধান করা, খোঁজখবর নেওয়া কিংবা কান পেতে শোনা শুরু হয়। এ কারণেই মহানবী (সা.) এ ধরনের আচরণ থেকে নিষেধ করেছেন।
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন : ‘তোমরা ধারণা-সন্দেহ থেকে বেঁচে থাকো; কারণ ধারণা সবচেয়ে মিথ্যা কথার অন্তর্ভুক্ত। তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান কোরো না, গুপ্তচরবৃত্তি কোরো না, পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা কোরো না, হিংসা কোরো না, বিদ্বেষ পোষণ কোরো না এবং একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ কোরো না; বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে থাকো।’ (বুখারি, হাদিস : ৫১৪৩)
এ ক্ষেত্রে মূলনীতি হলো, যে সন্দেহের পক্ষে কোনো সঠিক আলামত বা দৃশ্যমান কারণ নেই, তা থেকে বিরত থাকা এবং এমন সন্দেহ পোষণ করা হারাম। যদি কোনো ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে সৎ, গোপনীয়তা রক্ষাকারী এবং বিশ্বস্ত হিসেবে দেখা যায়, তাহলে তার ব্যাপারে কোনো প্রমাণ ছাড়া দুর্নীতি বা বিশ্বাসঘাতকতার ধারণা করা নিষিদ্ধ। তবে যে ব্যক্তি প্রকাশ্যে সন্দেহজনক ও নিন্দনীয় কাজে অভ্যস্ত হিসেবে পরিচিত, তার ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভিন্ন। হাসান (রহ.) বলেছেন : ‘আমরা এমন একসময়ে ছিলাম, যখন মানুষের সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করা হারাম ছিল। আর আজ তোমরা এমন সময়ে আছো—নিজের কাজ করো, নীরব থাকো, আর মানুষের সম্পর্কে যা ইচ্ছা ধারণা করো।’ (আল-জামি লি-আহকামিল কোরআন, খণ্ড-২০, পৃষ্ঠা-৩৮০)
অতএব, কোনো অভিযুক্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে যদি এমন কোনো সন্দেহ, অস্পষ্টতা বা গ্রহণযোগ্য কারণ থাকে, যা তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা দেয়, তাহলে সেই সন্দেহের কারণে শাস্তির সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে হবে। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সাধ্যানুযায়ী তোমরা মুসলিমদের দণ্ড প্রদান পরিহার করে চলো। কোনো ধরনের সুযোগ থাকলে তাকে দণ্ড থেকে পরিত্রাণ দাও। কেননা ইমাম (রাষ্ট্রপ্রধান) শাস্তি প্রদানে ভুল করার চেয়ে মাফ করে দেওয়ার ভুল উত্তম।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৪২৪)

ডেইলি দেশ নিউজ ডটকম ডেস্ক 
























